ওষুধ গবেষণায় ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের! লাইসেন্সের ঝঞ্ঝাট মুক্ত বিদেশ থেকে নমুনা আমদানি

দেশের ফার্মাসিউটিকাল গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ওষুধ গবেষণার মানোন্নয়ন ও ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ (Ease of Doing Business) নিশ্চিত করতে ১৯৪৫ সালের ‘ড্রাগস রুলস’-এ বড়সড় সংশোধনী আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশ থেকে গবেষণার কাজে ওষুধ আমদানি এখন অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে।

লাইসেন্সের গেরো থেকে মুক্তি এতদিন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা বা নন-ক্লিনিক্যাল টেস্টিংয়ের জন্য বিদেশ থেকে সামান্য পরিমাণে ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে ‘ফর্ম ১১’ (Form 11)-এর মাধ্যমে লাইসেন্স পাওয়া ছিল এক দীর্ঘমেয়াদী ও ঝঞ্ঝাটপূর্ণ প্রক্রিয়া। নতুন খসড়া সংশোধনীর প্রস্তাব অনুযায়ী, সেই পুরনো নিয়ম বাতিল হতে চলেছে। এর পরিবর্তে চালু হচ্ছে ‘অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট’ (Online Acknowledgement) ব্যবস্থা।

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?

  • দ্রুত অনুমোদন: এখন থেকে গবেষণাকারী সংস্থা বা স্টার্ট-আপগুলিকে আর লাইসেন্সের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না।

  • সহজ প্রক্রিয়া: গবেষকদের শুধু একটি ‘প্রায়র ইনটিমেশন’ (Prior Intimation) ফর্ম অনলাইনে জমা দিতে হবে।

  • তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি: ফর্ম জমা দেওয়ার সাথে সাথেই একটি অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট পাওয়া যাবে। এই ডিজিটাল নথির মাধ্যমেই বিদেশ থেকে ওষুধের স্যাম্পল বা নমুনা আনা যাবে।

গবেষণায় বাড়বে গতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেশের বায়োটেক ও ফার্মাসিউটিকাল স্টার্ট-আপগুলোর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যাওয়ায় গবেষণার গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে ওষুধ শিল্পে ভারতকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলবে। সরকারের এই পদক্ষেপে উদ্ভাবন (Innovation) ও গবেষণার সংস্কৃতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।