নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারচুপি? গ্রেড এ ও বি পদের বাছাই পদ্ধতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আদালত, বাড়ল চাপ

ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম ট্রাস্ট (এনপিএস ট্রাস্ট)-এর ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে আইনি জটিলতা। বিশেষ করে গ্রেড এ (অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার) এবং গ্রেড বি (ম্যানেজার) পদের বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার আসরে নামল দিল্লি হাইকোর্ট। তপশিলি জাতি (এসসি) ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) একদল চাকরিপ্রার্থীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আদালত ট্রাস্টকে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত মূল নথি এবং হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।

পুরো ব্যাপারটা কী?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, যখন এনপিএস ট্রাস্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে। জুন মাসে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাঝপথেই নিয়ম বদল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ ও অন্যায্য করে তুলেছে। আবেদনকারীদের দাবি, প্রাথমিক বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের জন্য ৫০ শতাংশ ওয়েটেজ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তা পরিবর্তন করে লিখিত পরীক্ষার জন্য ৮৫ শতাংশ এবং সাক্ষাৎকারের জন্য মাত্র ১৫ শতাংশ করা হয়। এর ফলে মেধাবী অনেক প্রার্থী যারা লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফল করেও সাক্ষাৎকারের ধাপের কাট-অফ নিয়মের গেরোয় বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আবেদনকারীদের মূল অভিযোগ, সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ হওয়ার পর কাট-অফ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ:
গত ২৯ মে ২৬শে মে-র শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় নারুলা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, আদালত পূর্বে যে নথিগুলো চেয়েছিল, তা এখনও পেশ করা হয়নি। এরপরই তিনি এনপিএস ট্রাস্টকে সরাসরি নির্দেশ দেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের মূল নথি আদালতে জমা দিতে হবে। বিচারপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচন কমিটির সভার কার্যবিবরণী (minutes of the meeting), সাক্ষাৎকার প্যানেলকে দেওয়া নির্দেশাবলী এবং দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় সকল প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। পরবর্তী শুনানির অন্তত দুই সপ্তাহ আগে এই নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বর্তমানে কোনো প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হলেও, তা এই মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে। অর্থাৎ, আদালতের নজরদারিতেই এখন এনপিএস ট্রাস্টের আগামী দিনগুলো কাটবে। স্বচ্ছতার দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের এই লড়াই এখন ভারতীয় প্রশাসনিক নিয়োগ ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এনপিএস ট্রাস্ট এই নথিপত্র কীভাবে পেশ করে এবং আদালত পরবর্তী পদক্ষেপে কী রায় দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।