এনকাউন্টার নাকি ঠান্ডা মাথার খুন? ভারত তিওয়ারি কাণ্ডে ব্যাকফুটে বিহার পুলিশ, ৩৬ ঘণ্টায় ৩ ইউ-টার্ন!

ভোজপুরের ভারত ভূষণ তিওয়ারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল গোটা বিহার। গত ১৭ জুন শাহপুর থানা এলাকার বিলাউটি গ্রামের বাসিন্দা ভারত তিওয়ারির কথিত এনকাউন্টারের ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের পাহাড়। পুলিশ দাবি করেছিল, এটি একটি এনকাউন্টার। কিন্তু পরিবারের পাল্টা অভিযোগ, ভারত তিওয়ারিকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই কোণঠাসা বিহার পুলিশ ও নীতীশ সরকার। রাজনৈতিক চাপ এবং জনরোষের মুখে গত ৩৬ ঘণ্টায় পুলিশ ও সরকারকে নিতে হয়েছে তিনটি বড় ধরণের ইউ-টার্ন।
পুলিশ ও সরকারের এই ভোল বদলের নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ঘটনার ৮ দিন পর ভোজপুরের পুলিশ সুপার নিজে ভারত তিওয়ারির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও সরকারের নেয়া ৩টি বড় ইউ-টার্ন হলো:
১. ঘটনার ৭ দিন পর, ভোজপুরের এসডিপিও এবং শাহপুর থানার এসএইচও-এর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
২. বিতর্কিত সেই এসডিপিও-কে তৎক্ষণাৎ বদলি করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ছিল এনকাউন্টার নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ।
৩. ঘটনার পরপরই ভারত তিওয়ারির বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা করেছিল পুলিশ। কিন্তু প্রবল চাপের মুখে এখন সেই মামলা থেকে তাঁদের নাম পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কেন পিছু হটল? এই ইউ-টার্নের মূল কারণ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ঘটনার দিন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় ভারত তিওয়ারি তাঁর বন্দুক ফেলে দিচ্ছেন। ভিডিওটি পুলিশের ‘ভুয়া এনকাউন্টার’-এর দাবিকে নস্যাৎ করে দেয়। এর পরেই শুরু হয় প্রবল জনরোষ। প্রবীণ বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে এই ঘটনায় সরাসরি পুলিশের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তোলেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সোচ্চার প্রতিবাদের জেরে। বিহারের মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশ ব্রাহ্মণ হলেও, রাজ্যের ৩০টিরও বেশি বিধানসভা আসনে তাঁদের জয়ের চাবিকাঠি রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্প্রদায় বিজেপির মূল ভোটার। ফলে ব্রাহ্মণদের অসন্তোষ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে আসরে নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বিহার সরকার ঘোষণা করেছে যে, পুরো ঘটনাটির তদন্ত করবেন পাটনা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনকাউন্টারের নামে এই ভয়াবহ কাণ্ডে পুলিশ এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তা বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। এখন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।