রাতের অন্ধকারে ঘাতক ট্রাক, রাজরাপ্পায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া!

ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলায় এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো ৮ জনের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রামগড়-বোকারো প্রধান সড়কে (এনএইচ-২৩) লারি-বারলং এলাকায় কয়লাবোঝাই একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা সকলেই একটি তাসা ব্যান্ডপার্টির সদস্য ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
সূত্রের খবর, বালসাগরা ও মারাং মার্চা গ্রামের আটজন সদস্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজেদের গাড়িতে করে ফিরছিলেন। পথে রামগড়-বোকারো এনএইচ-২৩ ধরে যাওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি কয়লাবোঝাই ট্রাক প্রচণ্ড গতিতে যাত্রীবাহী গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, যাত্রীবাহী গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজরাপ্পা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে রামগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সাতজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে রাঁচিতে স্থানান্তরিত করা হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা এনএইচ-২৩ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে পড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ক্ষুব্ধ জনতার দাবি, এই এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, তবুও প্রশাসন নিরাপত্তা বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে রামগড়ের এসডিপিও অলোক রঞ্জন, রাজরাপ্পা থানার পুলিশ ও বিভিন্ন থানার বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পুলিশ যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ট্রাকটি রাস্তার ভুল দিক (রং সাইড) দিয়ে আসছিল। যাত্রীবাহী গাড়িটিতে থাকা তাসা পার্টির সদস্যরা সম্ভবত নিজেদের গন্তব্যে ফেরার পথেই ছিলেন। নিহতদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রামগড় সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. অনিল কুমার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত অবস্থায় আটজনকেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং প্রত্যেকের মৃত্যু হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে
গত চার দিনের মধ্যে একই এলাকায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়রা। এসডিপিও অলোক রঞ্জন জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ট্রাক চালক ও ঘাতক ট্রাকটিকে শনাক্ত করতে পুলিশি তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে পুরো বিষয়টির তদন্ত করা হচ্ছে। শোকস্তব্ধ গ্রামগুলোতে এখন শুধু আর্তনাদ। রাস্তার এই বিপজ্জনক মোড় ও কয়লাবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।