কলকাতার আর্থিক গৌরব ফেরানোর উদ্যোগ! ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে চাঙ্গা করতে মরিয়া রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে এবার দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ’ (CSE)-কে ফের চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, কলকাতাকে পুনরায় দেশের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
পুনরুজ্জীবনের চ্যালেঞ্জ ও পথ ১৮৩০ সালে কলকাতার রাস্তায় এক নিম গাছের নিচে সামান্য কিছু দালালের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল সিএসই-র। ১৯০৮ সালে আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় এটি পূর্ব ভারতের পুঁজি বাজারের প্রাণকেন্দ্র ছিল। সেই ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি এই স্টক এক্সচেঞ্জকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। তবে বর্তমান প্রযুক্তিগত ও বাজারের পরিবর্তনের কারণে কাজটি সহজ নয়।”
সরকারের রণকৌশল মন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার বর্তমানে বিভিন্ন বিকল্প পথ খতিয়ে দেখছে। তাঁর মতে, মূল কৌশলটি হবে—কলকাতায় সদর দফতর রয়েছে এমন সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা এবং যারা বর্তমানে সিএসই-তে নথিভুক্ত, তাদের আরবিট্রেজ (Arbitrage) থেকে সরাসরি ট্রেডিং-এর দিকে ফিরিয়ে আনা। এর মাধ্যমে বাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ? ১. বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: স্টক এক্সচেঞ্জ পুনরায় সক্রিয় হলে পূর্ব ভারতে নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়বে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। ২. ঐতিহাসিক মর্যাদা: প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে কলকাতাকে পুনরায় ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক হাব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে সরকার। ৩. বাণিজ্যিক পরিকাঠামো: নতুন শিল্প ও ব্যবসা টানার পাশাপাশি আর্থিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে এই পদক্ষেপ একটি মাইলফলক হতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক মহলে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই পুরনো প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে, তা এখন দেখার বিষয়।