একদিন কাজ না আসাই আশীর্বাদ! তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন শ্রমিক

নিয়তির অদ্ভুত পরিহাস! রোজ যে নির্মাণাধীন গোডাউনে কাজ করতেন, সেই অভিশপ্ত দিনটিতে অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে পারেননি নীলা দেবী। আর এই অসুস্থতাই যেন তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনল। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

কীভাবে বাঁচলেন তিনি? হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে এখনো ভয়ে কাঁপছেন নীলা দেবী। তিনি নিয়মিত এই গোডাউনের ছাদে জল দেওয়ার কাজ করতেন। বুধবার শরীর খারাপ থাকায় তিনি কাজে যেতে পারেননি। তাঁর জায়গায় অন্য এক শ্রমিককে পাঠিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, সেই শ্রমিক বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি। নীলদেবী জানান, আগেও তিনি যখন কাজের সময় ছাদে ছিলেন, তখন ভাইব্রেটার মেশিন চলার সময় পুরো বাড়িটি কেঁপে উঠত। তখন ভেবেছিলেন হয়তো তাঁর নিজের মাথা ঘুরছে, কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন সেই গোডাউনের ভিত্তি কতটা দুর্বল ছিল।

উদ্ধারকার্যে চ্যালেঞ্জ বুধবার দুপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকার্য চলছে জোরকদমে। এনডিআরএফ (NDRF) বাহিনী গ্যাস কাটার ও ক্রেন ব্যবহার করে লোহার বিম সরিয়ে আটকে পড়াদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। মাঝে তুমুল বৃষ্টির কারণে কিছুটা বাধা পেলেও, বৃষ্টির প্রকোপ কমতেই ফের গতি বাড়ানো হয়েছে উদ্ধারকার্যে।

এখনও বাড়ছে উদ্বেগ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে চলছে চূড়ান্ত তৎপরতা। বহু শ্রমিক এখনও হাসপাতালে লড়াই করছেন জীবনের সঙ্গে। এই ঘটনায় নির্মাণ সংস্থা ও ঠিকাদারের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত সতর্কতা ও সুরক্ষা ছাড়াই চলছিল এই নির্মাণের কাজ।