আকাশ জুড়ে বাজ পড়ার আতঙ্ক! বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আজই জানুন এই জীবনদায়ী নিয়মগুলো

বজ্রপাতের সময় কী করবেন? (জীবন বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ)
নিরাপদ আশ্রয়: বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত কোনো মজবুত কংক্রিটের বাড়িতে ঢুকে পড়ুন। বাড়ির জানালা, দরজা ও বারান্দা থেকে দূরে থাকুন।
জল থেকে দূরে: পুকুর, নদী, খাল বা সুইমিং পুলে থাকলে অবিলম্বে উঠে আসুন। মনে রাখবেন, জল বিদ্যুৎ পরিবহনে অত্যন্ত সক্রিয়।
যাত্রাপথে সতর্কতা: যদি বাইরে থাকেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে নিচু জায়গায় বসে পড়ুন (মাটিতে শুয়ে পড়বেন না)। দুই পা একসঙ্গে জড়ো করে মাথা নিচু করে নিজের শরীরের আকার যতটা সম্ভব ছোট করে রাখুন।
ধাতব বস্তু থেকে দূরত্ব: সাইকেল, বাইক বা খোলা যানবাহনে থাকা বিপজ্জনক। এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি, ধাতব টাওয়ার বা তারের বেড়া থেকে অন্তত ২০ ফুট দূরে থাকুন।
কী করবেন না? (নিষিদ্ধ সতর্কতা)
গাছের নিচে আশ্রয়: বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো মৃত্যুর ফাঁদ হতে পারে। বজ্রপাত গাছে পড়লে তা মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে আপনার ক্ষতি করতে পারে।
ইলেকট্রনিক্সের ব্যবহার: বজ্রপাতের সময় টিভি, কম্পিউটার, ল্যান্ডফোন বা চার্জে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
খোলা জায়গায় ছাতা: বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটবেন না। ছাতার ধাতব দণ্ড বজ্রপাতকে আকর্ষণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: কেন বাড়ছে বজ্রপাতের তীব্রতা?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পের কারণে আকাশে দ্রুত ‘কিউমুলোনিম্বাস’ (Cumulonimbus) মেঘ তৈরি হচ্ছে। এই মেঘই প্রচণ্ড বজ্রপাত ও ঝড়ের প্রধান কারণ। আবহাওয়া দপ্তরের রেড বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট থাকলে অকারণে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না।
মনে রাখবেন: আকাশ কালো হয়ে আসা, ঘন ঘন বিদ্যুতের ঝলকানি বা মেঘের গর্জন শুনলে বুঝে নিন বিপদ আসন্ন। সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ঢুকে পড়াই জীবনের নিরাপত্তার সেরা উপায়।