ভিড়ে ঠাসা দিঘা নয়, এবার হারিয়ে যান ‘সারান্ডা’র নিস্তব্ধতায়! এশিয়ার বৃহত্তম শালবনের রোমাঞ্চকর হাতছানি

হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সপ্রেসে উঠে মানোহরপুর স্টেশনে নামলেই বদলে যাবে চারপাশ। সামনে শুধু দিগন্ত বিস্তৃত জঙ্গল আর পাহাড়। আপনার চোখের সামনে তখন ৮২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা এশিয়ার বৃহত্তম শালবন ‘সারান্ডা’। ঝাড়খণ্ডের ফুসফুস খ্যাত এই জায়গাটি হো আদিবাসীদের দেওয়া নাম, যার অর্থ সাতশো পাহাড়। কলকাতা শহরের দেড় গুণ বড় এই জঙ্গল কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এটি এক দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চার।
কী কী দেখবেন সারান্ডায়?
থলকোবাদ ইকো টুরিজম: জঙ্গলের একেবারে গভীরে ঝাড়খণ্ড টুরিজমের কটেজে রাত কাটানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে নেটওয়ার্ক বা টিভির কোনো বালাই নেই; রাতে জানলা খুললেই শোনা যায় বুনো হাতির ডাক।
কিরিবুরু ও মেঘাহাতুবুরু: মেঘ ছুঁতে চাইলে এই দুই পাহাড়ি চূড়া আপনার জন্য সেরা। SAIL-এর গেস্ট হাউসের ব্যালকনিতে বসে পায়ের নিচে মেঘের আনাগোনা আর সাপের মতো বেঁকে যাওয়া কারো নদী দেখার দৃশ্য ভুলতে পারবেন না।
প্রকৃতির অকৃপণ দান: স্বচ্ছ জলের কারো নদী এবং বর্ষায় জেগে ওঠা লিম্বুদা বা পিরা ঝর্ণার রূপ মোহনীয়। বুনো হাতির পাল, চিতা, বাইসন এবং আড়াইশোর বেশি প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে ভরা এই জঙ্গল বার্ড ওয়াচারদের স্বর্গ।
আদিবাসী সংস্কৃতি: হো-মুন্ডা গ্রামের মাটির বাড়িতে আলপনা আর ধামসা মাদলের তালে তাদের সাথে সময় কাটানো আপনাকে এক অন্য পৃথিবীতে নিয়ে যাবে।
যাওয়ার টিপস ও সতর্কতা:
সারান্ডা ভ্রমণের শ্রেষ্ঠ সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। যাওয়ার আগে মানোহরপুর বা জাগসাই ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে এন্ট্রি পারমিশন নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং অবশ্যই একজন গাইড সঙ্গে নেবেন। ইস্পাত বা টাটানগর এক্সপ্রেস ধরে পৌঁছে যান মানোহরপুর, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঢুকে পড়ুন গহীন জঙ্গলে। তবে মনে রাখবেন, এটি মাওবাদী প্রবণ এলাকা, তাই সন্ধ্যা ৬টার পর জঙ্গলের রাস্তায় বের হওয়া নিষেধ। হাতি দেখলে গাড়ি থামিয়ে দূরত্ব বজায় রাখা এবং জোরে মিউজিক না বাজানো জরুরি।
মনে রাখবেন, সারান্ডা ৫-স্টার রিসোর্ট নয়, এটি প্রকৃতির আদিম রূপ। এখানে মোবাইল টাওয়ার নেই, আছে কাঁচা মাটির গন্ধ আর নিস্তব্ধতা। দিঘার কৃত্রিম ভিড়ে দম বন্ধ লাগলে একবার সারান্ডার হাতির পায়ের ছাপ মেপে দেখুন, প্রকৃতি আপনাকে বুঝিয়ে দেবে আপনি কতটা ক্ষুদ্র।