নদীয়ায় তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙন, পদত্যাগ করলেন শান্তিপুরের পঞ্চায়েত প্রধান!

নদিয়া জেলায় শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। একের পর এক দুর্নীতি কাণ্ডে রাজ্যের মন্ত্রী থেকে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের আবহেই এবার নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের আরবান্দি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জিয়ার রহমান শাহ পদত্যাগ করলেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, একদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এবং অন্যদিকে দলের ভেতরকার অন্দরের সমীকরণ বদলে যাওয়ায় তৃণমূলের জন্য পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, আরবান্দি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ২০ জন। এর মধ্যে ১০ জন বিজেপির এবং ১০ জন তৃণমূলের (একজন নির্দল সদস্যের সমর্থনে)। সমসংখ্যক সদস্য থাকায় বোর্ড গঠনের সময় লটারির মাধ্যমে তৃণমূল ক্ষমতা দখল করেছিল। তবে প্রধানের পদত্যাগের ফলে সেখানে তৃণমূলের শক্তি হ্রাস পেল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খুব শীঘ্রই এই পঞ্চায়েতের দখল নিতে চলেছে বিজেপি।
যদিও পদত্যাগের কারণ হিসেবে তৃণমূল প্রধান জিয়ার রহমান শাহ রাজনৈতিক চাপ বা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেলেও প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়াই ছিল তাঁর লক্ষ্য।
বিজেপি নেতা তথা শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি চঞ্চল চক্রবর্তী জানান, তৃণমূলের অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও জিয়ার রহমান শাহ ব্যক্তিগতভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছ এবং সৎ মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। বিরোধীদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল। তবে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা তিনি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, দলের দরজা এখন সবার জন্য বন্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নদিয়ায় উজ্জ্বল বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারের পর পঞ্চায়েত প্রধানের পদত্যাগ তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। আসন্ন দিনগুলোতে এই পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ এবং বোর্ড গঠন নিয়ে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।