গোমতীর জলে তৃষ্ণা মিটবে আগরতলার! দীর্ঘমেয়াদী পানীয় জল প্রকল্প নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা শহরের ক্রমবর্ধমান পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে এবং ভবিষ্যতে জলের সংকট রোধ করতে এবার গোমতী নদীর জলকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ত্রিপুরা সরকার। আগরতলার এস. পি. মুখার্জি লেনস্থিত টিআইএফটি-র ওয়ার রুমে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং একটি টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে সুশাসন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে এক সুচিন্তিত উপস্থাপনার মাধ্যমে আগরতলার বর্তমান জল পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে শহরের পানীয় জলের একটি বিশাল অংশ ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নগরায়ণের ফলে এই উৎস ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে শুখা মরশুমে জলের সংকট এড়াতে ভূপৃষ্ঠের জলের উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গোমতী নদীকে কেন্দ্র করে উদয়পুরের মহারাণী ব্যারেজ থেকে জল আহরণ, দীর্ঘ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং অত্যাধুনিক জল পরিশোধন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব এই বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “শুধুমাত্র বর্তমানের কথা ভাবলে চলবে না, আগামী কয়েক দশকের চাহিদা মাথায় রেখে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।” তিনি জানান, এখনকার সময়ে প্রচুর জল অপচয় হচ্ছে, যা রোধ করা একান্ত জরুরি। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে তা ব্যবহারের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যাবসায় থাকলে যেকোনো বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় শুধু পাইপলাইন নয়, শুখা মরশুমে জলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পৃথক কাঁচা জলাধার খননেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল হলে আগরতলা শহরের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, মেয়র দীপক মজুমদার সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই পুরো প্রকল্পটিকে ‘মিশন মোড’-এ সম্পন্ন করতে, যাতে দ্রুত এর সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।