কেন বলিউডকে বলা হতো ‘আঞ্চলিক’? কান-এর মঞ্চে জীবনের চরম অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস করলেন পিগি চপস

বলিউড কি কোনোদিন হলিউডের মতো বিশ্বজনীন মর্যাদা পাবে? এই প্রশ্নটি এক সময় সিনেমার দুনিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। কেরিয়ারের শুরুতে খোদ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-কে শুনতে হয়েছিল যে, ভারতীয় সিনেমা কখনোই বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিতে পারবে না, কারণ আমাদের ভাষা নাকি বিশ্বের মানুষ বোঝে না। কিন্তু আজ সেই ধারণা সম্পূর্ণ ফিকে। সম্প্রতি ফ্রান্সের কান লায়ন্স (Cannes Lions) উৎসবে উপস্থিত হয়ে বিনোদন জগতের এই আমূল পরিবর্তনের চিত্রটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
আজ প্রিয়াঙ্কা বিশ্বের দরবারে এক পরিচিত নাম হলেও, তাঁর এই সাফল্যের পথ মসৃণ ছিল না। অন্দরমহলের কোনো পরিচিতি ছাড়াই তিনি পা রেখেছিলেন গ্ল্যামার জগতে। প্রিয়াঙ্কা অকপটে জানালেন, তাঁর বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক হওয়ায় সিনেমার অলিগলি কীভাবে নেভিগেট করতে হয়, তা তাঁদের জানা ছিল না। শুরুতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছিল অত্যন্ত গণ্ডিবদ্ধ। সেই কঠিন সময় পেরোনোর অভিজ্ঞতাই তাঁকে আজ নিজের একটি প্রযোজনা সংস্থা খুলতে উৎসাহিত করেছে। তাঁর মূল লক্ষ্য এখন সেইসব নতুন পরিচালক ও প্রতিভাবানদের পাশে দাঁড়ানো, যাঁদের কাছে অসাধারণ আইডিয়া থাকা সত্ত্বেও বড় স্টুডিওর দরজাগুলো খোলার সামর্থ্য নেই।
প্রিয়াঙ্কার মতে, সময় এখন দ্রুত বদলেছে। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং অতিমারি পরিস্থিতি মানুষের কনটেন্ট দেখার অভ্যাস আমূল বদলে দিয়েছে। এখন ভাষা আর কোনো বাধা নয়। কান-এর মঞ্চে তিনি সম্প্রতি কম বাজেটের সুপারহিট হরর ছবি ‘অবসেশন’-এর উদাহরণ টেনে বোঝালেন বিনোদনের নতুন সমীকরণ। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “এখন আপনার মাথায় কোনো আইডিয়া থাকলে সেটা শুট করে ইউটিউবে দিয়ে দিন, ওটাই হয়তো পরবর্তী ‘অবসেশন’ হয়ে উঠবে। বিনোদন দুনিয়ার জন্য এটা একটা দারুণ সময়, কারণ এখন আপনার মেধার আইডিয়াই আপনার আসল সম্পদ।”
বলিউডের সমস্ত প্রথম সারির পরিচালক ও অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার পর, প্রিয়াঙ্কা এখন হলিউডের মাটিতে নিজের জায়গা আরও শক্ত করছেন। ‘সিটাডেল’ বা ‘হেডস অফ স্টেট’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের সাফল্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। যে বলিউডকে একসময় ‘আঞ্চলিক’ বলে অবজ্ঞা করা হয়েছিল, আজ ওটিটির হাত ধরে সেই ভারতীয় কনটেন্টকেই বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন পিগি চপস। বিনোদনের দুনিয়ায় প্রিয়াঙ্কার এই লড়াই এখন নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।