‘হয় নীতি প্রত্যাহার করুন, নয়তো দাম কমান!’ ইথানল বিতর্কে ১০০ কর্মী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির দিকে কেজরিওয়াল

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ দুপুর ১২টায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে একটি হাই-ভোল্টেজ পদযাত্রা শুরু করেছেন। ই-২০ পেট্রোল সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে তিনি দলীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে ৯৫ লোধি এস্টেটস্থিত তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে রওনা দেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মূল ঘোষণা অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১০০ জন বিশ্বস্ত দলীয় কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করবেন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ২ লক্ষ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদনপত্র জমা দেবেন। তাঁর সাফ দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে ই-২০ পেট্রোল নীতি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে অথবা এর দাম কমিয়ে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা করতে হবে। পাশাপাশি, দেশের সাধারণ মানুষকে তাদের ব্যক্তিগত যানবাহনে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ পেট্রোল অথবা ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল—যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার খোলা বিকল্প দিতে হবে।

এদিকে, কেজরিওয়ালের এই প্রস্তাবিত পদযাত্রাকে ঘিরে তীব্র আইনি আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শত শত আইনজীবী। তাঁরা সরাসরি দিল্লি পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিয়ে এই মিছিলের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আইনজীবীদের স্পষ্ট যুক্তি হলো, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হলো জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের অন্যতম সর্বাধিক সংবেদনশীল ও অত্যন্ত সুরক্ষিত নিরাপত্তা জোন। এই ধরনের একটি হাই-সিকিউরিটি এলাকায় যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ বা রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেশের সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা এবং সাংবিধানিক শীর্ষ পদাধিকারীদের সুরক্ষার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে।

আইনজীবীরা দিল্লি পুলিশকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিগত ২১ জুলাই, ২০২৬-এর সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি, যখন বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সাংসদ কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। সেই ঘটনার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট, বিভিন্ন হাইকোর্ট এবং একাধিক জেলা আদালতের শত শত আইনজীবী উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও জমায়েতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশিকার দাবিতে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি যৌথ আবেদন জমা দিয়েছিলেন। আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও অত্যন্ত কঠোর হয়েছে।

অন্যদিকে, কেজরিওয়ালের এই রাজনৈতিক মিছিলের তীব্র সমালোচনা করে মাঠে নেমেছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দিল্লি বিজেপি সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন যে, দেশের রাজনীতিতে ‘এক নম্বর নৈরাজ্যবাদী’ উপাধি অর্জনের জন্য বর্তমানে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে একটি তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। রাহুল গান্ধী ঠিক যেভাবে অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এ ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন, তার সূত্র ধরেই নৈরাজ্যের খেলায় পিছিয়ে পড়া পুষিয়ে নিতেই কেজরিওয়াল আজ ইথানল ইস্যুকে হাতিয়ার করে অনুমতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যাওয়ার এই মরিয়া নাটক শুরু করেছেন।

দিল্লি বিজেপি সভাপতি আরও তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন যে, প্রথমে ইচ্ছাকৃতভাবে সমাজে ও রাজধানীতে নৈরাজ্য ছড়ানো এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নিরপরাধ সাজার ভান করা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত পুরোনো ও চেনা রাজনৈতিক চরিত্র। এখন যখন পুলিশ প্রশাসন ও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়া এই উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকতে কঠোর হাতে বাধা দেবে, তখন কেজরিওয়াল চিরাচরিত কায়দায় ভুক্তভোগীর ভান করে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়োনোর চেষ্টা করবেন এবং বলবেন যে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলতেও মোটেও রাজি নয়। সবমিলিয়ে, এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এই মুহূর্তে চরম মাত্রায় চড়ে রয়েছে।