ইউপিআই ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর! টাকা পাঠানোর আগে কি এবার স্ক্রিনেই আসবে নতুন ‘হ্যাঁ/না’ অপশন?

ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের মেরুদণ্ড হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে ইউপিআই (UPI)। ছোট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের ঝাঁ-চকচকে বড় বড় শপিং মল—সব জায়গাতেই গুগল পে, ফোনপে বা পেটিএম-এর মতো ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন এখন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। তবে এই ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি যত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঠিক ততটাই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে নানা ধরনের সাইবার জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণার ঘটনা। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্রমবর্ধমান এই প্রতারণা রোধ করতে এবার নড়েচড়ে বসেছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি।
ব্যাংকিং খাতের এই বাড়তি দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র কাছে নতুন কিছু কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব পেশ করেছে ব্যাঙ্কগুলি। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবটি হলো সন্দেহজনক বা হাই-রিস্ক ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ‘হ্যাঁ/না’ কনফার্মেশন স্ক্রিন চালু করা। এই নতুন ফিচারটি যুক্ত হলে ব্যবহারকারী যখনই কোনো ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন করতে যাবেন, তখনই স্ক্রিনে একটি পপ-আপ মেসেজ আসবে। সেখানে ব্যবহারকারী যদি ‘হ্যাঁ’ বিকল্পটি বেছে নেন, তবেই কেবল টাকা স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, আর যদি ‘না’ বেছে নেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই লেনদেনটি বাতিল হয়ে যাবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশেষ করে ১০,০০০ টাকার বেশি অঙ্কের কিছু নির্দিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ধরনের অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর বা টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ১০,০০০ টাকার ওপরের সমস্ত লেনদেনের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। এনপিসিআই-এর এই সম্ভাব্য নতুন ফিচারটি মূলত সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের স্বাভাবিক লেনদেনে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে শুধুমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে তৈরি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি সম্পূর্ণভাবে হাই-রিস্ক পরিস্থিতি বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ কোনো বড় অঙ্কের লেনদেন করা, কোনো সম্পূর্ণ নতুন অচেনা ব্যক্তিকে প্রথমবারের মতো টাকা পাঠানো, কিংবা সদ্য খোলা কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তরের মতো ক্ষেত্রগুলিতেই এই কঠোর নিয়মগুলি কড়াকড়িভাবে কার্যকর হতে পারে। তাড়াহুড়োর বশে ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করা এবং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা সাইবার ক্রাইম থেকে সাধারণ ইউপিআই ব্যবহারকারীদের সুরক্ষিত রাখাই এই পদক্ষেপে মূল লক্ষ্য।
তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। তবে স্পষ্ট করে রাখা প্রয়োজন যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা এনপিসিআই-এর পক্ষ থেকে যতক্ষণ না পর্যন্ত এই নিয়মগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিফিকেশন আকারে জারি ও কার্যকর করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান ইউপিআই পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা কড়াকড়ি আসছে না। দৈনন্দিন লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে, তবে ভবিষ্যতে ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম আরও বেশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।