“লোহা-কংক্রিটের চাপে চাপা পড়ল নিয়ম!”-বেআইনি নির্মাণের নেপথ্যে কে এই আসগর?

তারাতলার ব্রেস ব্রিজের কাছে ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনায় এখন প্রশ্নের মুখে নির্মাণকাজের বৈধতা। লোহার বিম এবং কংক্রিটের বিশাল ভার বইতে না পেরেই ভেঙে পড়ে তিন তলার এই নির্মীয়মাণ কাঠামোটি। বুধবার দিনের আলোয় ঘটা এই বিপর্যয়ে শ্রমিকদের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য সরাসরি আঙুল উঠছে নির্মাণ সংস্থার গাফিলতির দিকে।

জানা গেছে, এই গুদামটি ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের এক সংস্থার। ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত লজিস্টিকস ও চা-পাতা সংরক্ষণের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ডেভেলপার আসগর খান। গত ছয়-সাত মাস ধরে চলছিল এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। আসগর খানের রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে এলাকায় বিস্তর চর্চা রয়েছে। বিশেষত, দক্ষিণ কলকাতার এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে।

নিরাপত্তা ও অনুমোদনের প্রশ্ন:
কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে লিজ নেওয়া এই জায়গায় নির্মাণকাজ চালাতে হলে কলকাতা পুরসভার (KMC) কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) নেওয়া বাধ্যতামূলক। বড় প্রশ্ন হলো—এই নির্মাণটির জন্য কি আদৌ যথাযথ এনওসি নেওয়া হয়েছিল? নাকি প্রভাবশালী আসগর খানের রাজনৈতিক দাপটে সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছিল? পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিয়ে এখন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণটি ছিল সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’। বুধবার দুপুরের দিকে আচমকাই তিন তলা থেকে ছাদটি ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাঠামোটি তৈরির সময় গুণমানের ধারেকাছেও ছিল না। উদ্ধারকাজ চলাকালীন ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে অনেকেরই প্রাণহানির খবর মিলেছে।

শহরের বুকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ কীভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, লোহার বিম ও কংক্রিটের ভার বহন করার ক্ষমতা যাচাই না করেই যেভাবে বহুতল গোডাউন তৈরি হচ্ছিল, তা এক প্রকার ‘গণহত্যা’র শামিল। আসগর খান এবং বেহরা ব্রাদার্সের যোগসাজশ খতিয়ে দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে।