অম্বুবাচী ২০২৬: ধরিত্রী মায়ের ঋতুমতী হওয়ার সময় শেষ কবে? জানুন নিবৃত্তির পর করণীয়

সনাতন ধর্মে অম্বুবাচী উৎসবের মাহাত্ম্য অপরিসীম। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হওয়ার পর পৃথিবী ঋতুমতী হন। ধরিত্রী মায়ের এই ঋতুমতী হওয়াকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় পবিত্র অম্বুবাচী। এই সময়টি পৃথিবী অশুচি বলে গণ্য করা হয়, তাই চলে নানা বিধিনিষেধ। চলতি বছরে অম্বুবাচীর সময়সূচি ও পরবর্তী নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অম্বুবাচী ২০২৬-এর সময়সূচি:
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, চলতি বছরে অম্বুবাচীর সময়সীমা নিম্নরূপ:

অম্বুবাচী প্রবৃত্তি (শুরু): গত ২২ জুন, সোমবার (৭ আষাঢ়) রাত ৭টা বেজে ৩৮ মিনিটে অম্বুবাচী শুরু হয়েছে।

অম্বুবাচী নিবৃত্তি (শেষ): আগামী ২৬ জুন, শুক্রবার (১১ আষাঢ়) রাত ১০টা বেজে ৫৭ মিনিটে অম্বুবাচী সমাপ্ত হবে।

কামাখ্যা ও অম্বুবাচীর অনন্য ঐতিহ্য:
আসামের কামাখ্যা মন্দির দেবী সতীর যোনিপীঠ হিসেবে পরিচিত। শাস্ত্র মতে, এই তিন দিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। দেশের সমস্ত মন্দির ও গৃহকোণে থাকা মাতৃমূর্তির মুখ ঢেকে রাখা হয়। তবে বীরভূমের তারাপীঠ এর ব্যতিক্রম। সেখানে এই সময়কালেও নিত্যপুজো অব্যাহত থাকে। বাকি সর্বত্রই চলে পৃথিবীর এই অশৌচ পালন। এই সময়ে কৃষিকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। সাধু-সন্ত ও বিধবা মহিলারা আগুনের স্পর্শে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলেন এবং ফলমূল খেয়ে ব্রত পালন করেন।

নিবৃত্তির পর জীবনযাত্রা ও করণীয় নিয়ম:
আগামী ২৬ জুন রাত ১০টা ৫৭ মিনিটের পর অম্বুবাচী শেষ হবে এবং ধরিত্রী পুনরায় শুচি হবেন। নিবৃত্তির পর স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার জন্য শাস্ত্রীয় কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:

১. ঘরবাড়ি শুদ্ধিকরণ: নিবৃত্তির পরের দিন সকালে পুরো বাড়ি সাবান-জল দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। ব্যবহৃত বিছানার চাদর ও পোশাক ধুয়ে ফেলা জরুরি।
২. নিজের শুদ্ধিকরণ: সকালে স্নানের সময় সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।
৩. দেবদেবীর উপাসনা: শুদ্ধ হওয়ার পর ঠাকুরঘরের দেব-দেবীদের মূর্তি বা ছবির ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে দিতে হবে। নিয়ম মেনে প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে পুজো শুরু করতে হবে। কামাখ্যা মন্দিরসহ সমস্ত সতীপীঠের দরজা ভক্তদের জন্য এই সময়েই উন্মুক্ত করা হয়।
৪. মাঙ্গলিক কাজ: অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পরেই চাষাবাদ, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন বা অন্য যেকোনো মাঙ্গলিক শুভ কাজ পুনরায় শুরু করা যায়।

অম্বুবাচীর এই সময়টুকু মূলত মাটির সঙ্গে মানুষের সংযোগ এবং প্রকৃতির বিশ্রামের এক প্রতীকী বার্তা। ২৬ জুন রাতের নিবৃত্তির পর থেকে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে এবং ধরিত্রী দেবী পুনরায় শস্য-শ্যামলা হয়ে উঠবেন বলে বিশ্বাস করা হয়।