সব গোপন তথ্য কি ফাঁস? তৃণমূল সাংসদের প্রাক্তন লয়ারের সঙ্গে গোপনে বৈঠক বিরোধী দলনেতার

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় বসু। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আর মামলা লড়বেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি। আর এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সঞ্জয় বসুর দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক। তবে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন উভয় পক্ষই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চলা কয়লা পাচার এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো হাই-প্রোফাইল মামলার সমস্ত আইনি খুঁটিনাটি ও নথিপত্র সঞ্জয় বসুর নখদর্পণে রয়েছে। শুধু অভিষেক নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়ার যাবতীয় পরিস্থিতির সাক্ষী তিনি। ফলে সঞ্জয়ের কাছে থাকা তথ্য ভাণ্ডার বিরোধী শিবিরের হাতে গেলে তৃণমূল সাংসদ বড়সড় বিপাকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিধানসভার অন্দরেও শাসক শিবিরের অস্বস্তি কম নয়। বিগত দু’দিনের অধিবেশন প্রমাণ করে দিয়েছে, বিরোধী দলের চেয়েও শাসকদলের অন্দরে ‘নতুন তৃণমূল’ ও ‘পুরনো তৃণমূল’ দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বিধায়ক কুণাল ঘোষ যেভাবে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগের আঙুল তুলেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন। ভরা বিধানসভায় কুণাল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যারা তৃণমূলের সঙ্গে বিবাদ করে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে, তাদের যেন কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বক্তার তালিকা থেকে কুণালের নাম কেটে দেওয়া নিয়ে দুই শিবিরের তিক্ততা আরও প্রকট হয়েছে। একপ্রকার বলাই যায়, পুরনো তৃণমূলের চাপ সামলাতে কার্যত দিশেহারা নতুন তৃণমূল শিবির।
এই পরিস্থিতিতে যখন তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের এককালের ঘনিষ্ঠ আইনজীবী সঞ্জয় বসু, নতুন তৃণমূলের বিরোধী তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন, তখন তা কি নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বড় রাজনৈতিক ছক? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। সঞ্জয় বসুর আইনি দক্ষতা এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা মামলার গূঢ় রহস্য সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে কি না, তা নিয়ে সরগরম শোরগোল। একদিকে বিধানসভার অন্দরে চাপের মুখে নতুন তৃণমূল, অন্যদিকে আইনি কৌশলের এই নয়া মোড়— সব মিলিয়ে শাসক দলের অন্দরের ফাটল যে ক্রমশ বড় হচ্ছে, তা স্পষ্ট।