আইপিএল তারকার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের দায়ে অভিযুক্ত অভিষেক পোড়েল

বাংলার ক্রিকেটাঙ্গনে ফের বড় ধাক্কা! দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ দায়ের করেছেন এক তরুণী। কর্ণাটকের এক ২৪ বছর বয়সী ডাক্তারি পড়ুয়া তরুণী হুগলির মগরা থানায় এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দননগরের বাসিন্দা তথা প্রতিশ্রুতিমান এই ক্রিকেটারকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারিণী তরুণীর দাবি, গত সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রিকেটার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। এমনকি দেড় বছর আগেও এই সম্পর্ক নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হলে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়, তবে সেই সময় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কিন্তু মঙ্গলবার ওই তরুণী তাঁর মা-কে নিয়ে সরাসরি মগরা থানায় হাজির হন এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেন।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুঁয়ার ভূষণ সিং স্বয়ং মগরা থানায় পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সেখানে ডিএসপি (ক্রাইম) অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র ও মগরা থানার আইসি সৌমেন সরকারের সঙ্গে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং তদন্তের রূপরেখা তৈরি করেন। ডিএসপি (ক্রাইম) অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র জানিয়েছেন, “মগরা থানায় তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা রয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আইপিএল তারকা অভিষেক পোড়েল। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে থাকা অভিষেক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আইপিএল শেষ হয়েছে, আমি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি। ইদানীং ক্রিকেটারদের বদনাম করার জন্য নানা মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।” অভিষেক আরও জানিয়েছেন, পুলিশের সঙ্গে তাঁর এখনও সরাসরি কোনো কথা হয়নি, তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
তবে এই ঘটনায় সামাজিক ও ক্রীড়া মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তরুণী ও তাঁর পরিবার বর্তমানে মুখ খুলতে না চাইলেও, আইপিএল-এর মতো বড় মঞ্চে নজর কাড়া এক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের নেপথ্যে কী সত্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশ এখন অভিযোগকারিণীর বয়ান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।