“মিড-ডে মিল থেকে ডিম বিদায়!”-নিরামিষভোজী রাজ্য করার মতলব বললেন ডেরেক

কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলির মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। শিশুদের খাবারের তালিকা থেকে ডিম বাদ পড়ায় সরব হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সরাসরি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ‘নিরামিষভোজী রাজ্য’ তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।

ডেরেকের ‘গুজরাত জিমখানা’ তোপ: নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ডেরেক ও’ব্রায়েন লেখেন, “নির্বাচনী প্রচারে মাছ খাওয়ার তামাশা করার পর, এখন ‘গুজরাত জিমখানা’ নিজেদের আসল চরিত্র দেখাচ্ছে। শিশুদের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত করে রাজ্যকে নিরামিষভোজী করার ছক কষছে বিজেপি।” উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল বারবার অভিযোগ করেছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আমিষ খাবারে নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। ডেরেকের দাবি, সেই আশঙ্কাই এখন সত্যি হতে চলেছে।

পাল্টা সরব মুখ্যমন্ত্রী: এই বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন, এটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’। খাবারের গুণমান নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “ইসকন শিশুদের ভালো খাবারই দিচ্ছে। খেয়ে দেখুন গুণমানে ভালো। যদি কারো ইচ্ছা না হয়, তবে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।” অর্থাৎ, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি।

ইসকনের সাফাই: ডিম বাদ পড়ার ফলে শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাবে কলকাতা ইসকনের মুখপাত্র রাধারমন দাস জানিয়েছেন, সয়াবিন, পনির ও রাজমার মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে আমিষের বিকল্প চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসকনের দাবি, নিরামিষ হলেও পুষ্টিগুণে কোনো আপস করা হবে না।

তৎপরতা ও বিরোধ: নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি বিধায়কদের মাছ-ভাত খাওয়ার ছবি বেশ চর্চায় ছিল। সেই সময় তৃণমূলের প্রচারকে ‘ভ্রান্ত’ বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু সরকার গঠনের পর মিড-ডে মিলের এই নতুন নিয়ম রাজনৈতিক তরজায় নতুন ঘি ঢালল।

শিশুদের পাতে ডিম বনাম নিরামিষ খাবারের এই লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি ডায়েট চার্টের বিতর্ক নয়, বরং দুই শিবিরের আদর্শগত সংঘাতের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ।