লক ভাঙল চোখের নিমেষে! দিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় মোবাইল চুরি করে পালানোর চেষ্টায় ধরা পড়ল দুই যুবক

রাজধানী দিল্লির রাস্তায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল চোরেরা। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিতে গাড়ির লক ভেঙে মোবাইল ফোন চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল দুই যুবক। ধৃতদের নাম মোহাম্মদ সাহিল ও মোহাম্মদ রশিদ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা পেশাদার চোরচক্রের সদস্য হতে পারে।

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির একটি ব্যস্ত এলাকায়। ভুক্তভোগী যুবক গাড়ি পার্ক করে অল্প সময়ের জন্য কাজে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, গাড়ির দরজা খোলা এবং ভেতর থেকে মোবাইল ফোনটি উধাও। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেন তিনি। চিৎকার শুনে পথচারীরা এবং স্থানীয় দোকানিরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। দুই দুষ্কৃতী কাছাকাছি একটি গলির মধ্য দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। স্থানীয়দের ক্ষিপ্রতায় শেষমেশ তাদের ধরে ফেলা হয় এবং খবর দেওয়া হয় দিল্লি পুলিশকে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে অভিযুক্তদের আটক করে।

প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। পুলিশের সন্দেহ, ধৃতরা দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর করে দামি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন থানায় আরও চুরির মামলা থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এখন জানার চেষ্টা করছে, তারা কোনো বৃহত্তর অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না।

ভুক্তভোগী যুবক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানান, “যদি স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ সঠিক সময়ে সাড়া না দিত, তবে ফোনটি উদ্ধার করা অসম্ভব হতো।” দিল্লিতে গাড়ি পার্কিংয়ের সময় এ ধরনের চুরির ঘটনা নতুন নয়। ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়ির লক খুলে ফোন, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চোরেরা। যা সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দিল্লি পুলিশ কমিশনার সম্প্রতি এ ধরনের অপরাধ দমনে কড়া অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে পার্ক করা গাড়িতে কোনো দামি সামগ্রী ফেলে না রাখা হয়। অভিযুক্তদের আরও জেরা করে দিল্লি পুলিশ এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই ধরনের দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের ফলে রাজধানীর চুরি হওয়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার এবং চোরদের নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রে পুলিশ বড় সাফল্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।