চোখের সামনে সব শেষ! তারাতলায় গোডাউন ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ভিতরে আটকা শ্রমিকদের বাঁচানোর লড়াই

শহরের বুকে ফের ভয়াবহ বিপর্যয়। কলকাতার তারাতলায় ব্রেসব্রিজের কাছে একটি বিশাল নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবারের এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে প্রাথমিক খবরে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী, দমকলের ইঞ্জিন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোডাউনটি আকারে বেশ বড়। তিনতলা এই বিল্ডিংটির উপরের দুই তলার ঢালাইয়ের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এদিন একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সেই সময় হঠাৎই বিকট শব্দে আস্ত ছাদটি ভেঙে পড়ে। লোহার বিশাল বিশাল বিম, ইঁট এবং কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে যান সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা। গোডাউনের ভেতর থেকে আটকে পড়া শ্রমিকদের চিৎকার ও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকাকে এক শোকাতুর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের বাইরে থেকে প্রিয়জনদের নাম ধরে ডেকে তাঁদের সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে।
ঘটনাস্থল থেকে আসা ভিডিও ফুটেজে এক ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। চারদিকে লোহা ও কংক্রিটের জঙ্গল। বিপর্যয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা গ্যাস কাটার নিয়ে ধ্বংসস্তূপের লোহা কেটে আটকে থাকাদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এলাকায় একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ঢুকছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিতরে কয়েকজন মহিলা শ্রমিকও আটকে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্ধারকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এত বড় মাপের একটি নির্মাণকার্য চলাকালীন নিরাপত্তা বিধি যথাযথ মানা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আপাতত উদ্ধারকাজই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও যারা আটকে আছেন, তাঁদের প্রাণের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে সময়ের সাথে সাথে। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।