শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগে বড় স্বস্তি! বালাসন নদীতে সেনার তৈরি ফুটব্রিজ চালু

টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসনের অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতু ভেসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে ময়দানে নেমেছে ভারতীয় সেনা। ত্রিশক্তি কোরের সুকনা ৩৩ কোরের ৫ ইঞ্জিনিয়ার রেজিমেন্টের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাত্র কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া কাজ বুধবার সকালেই সফল হয়। বর্তমানে সেনার তৈরি প্রায় ৩৪ মিটারের (১০০ ফুট) এই অস্থায়ী ফুটব্রিজ দিয়ে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর বালাসনের পুরনো লোহার সেতুটি হড়পা বানে ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পূর্ত দফতর হিউমপাইপ বসিয়ে বিকল্প পথ তৈরি করলেও, গত বৃহস্পতিবারের অতিবৃষ্টি সেই পথও গ্রাস করে। শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া হয়ে মিরিক যাওয়ার ১২ নম্বর রাজ্য সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পর্যটন ও স্থানীয় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, যান চলাচলের উপযোগী আরও একটি চওড়া বেইলি ব্রিজ তৈরির কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। নদীর এই অংশটি প্রায় ৩৫০ ফুট চওড়া হওয়ায়, সেনার প্রকৌশলীরা নদীর একাংশে বোল্ডার ফেলে ১৫০ ফুট এলাকা বাঁধ দিয়ে বাকি ২০০ ফুট অংশে বেইলি ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। এই সেতুটি চালু হলে ছোট পণ্যবাহী গাড়ি এবং যাত্রীবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, পূর্ত দফতরের প্রধান সচিব অন্তরা আচার্য জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এই এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় প্রশংসিত হয়েছে। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে সেনাবাহিনীর এই সাহায্য সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা পেতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। এটি এক চমৎকার সমন্বয়ের নিদর্শন।”
নিরাপত্তার সব দিক খতিয়ে দেখার পরই ফুটব্রিজটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সেনার মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্থায়ী সেতু না হওয়া পর্যন্ত এই ফুটব্রিজই এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে। শিলিগুড়ি থেকে দুধিয়া এসে হেঁটে সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে অপেক্ষমাণ গাড়িতে চড়ে অনায়াসেই এখন মিরিক বা পশুপতি ফটকের দিকে যাওয়া যাচ্ছে। আপাতত এই অস্থায়ী ব্যবস্থায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা উভয়ই।