মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশের ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, কালীগঞ্জের তমন্না খুনে বড় অ্যাকশন পুলিশের!

কালীগঞ্জের ছয় বছরের শিশুকন্যা তামান্না খাতুন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তদন্তে নতুন গতির সঞ্চার হলো। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তামান্নার মায়ের সাক্ষাতের ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসল। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে তামান্না খুনের তদন্তে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ জুন। কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোট গণনার দিন তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এলাকায় বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমায় প্রাণ যায় ছোট্ট তামান্নার। এই নৃশংস ঘটনাটি গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। এতদিন তদন্ত ঝিমিয়ে থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন তামান্নার পরিবার।
মঙ্গলবার বিধানসভা ভবনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাবিনা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করেছেন। আমি বিচার পাওয়ার ভরসা পাচ্ছি।” তামান্নার পরিবার শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছিল যে, প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এতদিন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় বিচারের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকারের তৎপরতায় প্রশাসনিক কঠোরতা ফের দৃশ্যমান।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে নদিয়ার পলাশিপাড়া ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জিয়ারুল শেখ ও সাবির শেখ নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, সোমবার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অতুল ভি-র কাছে বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। পুলিশ সুপার সেদিনই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আগামী ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই বাকি অভিযুক্তদের জালে আনা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির রেশ কাটতে না কাটতেই এই জোড়া গ্রেফতারি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের অভিযোগ ছিল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তিনি বারবার পুলিশের দ্বারে গিয়েও বিচার পাননি। তদন্তের নামে দায়সারা কাজ চালানো হয়েছে বলে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিযোগ। তবে পালাবদলের পর নতুন সরকারের ওপর ভরসা রেখে তিনি যে দরবার করেছিলেন, তার ফলাফল পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়েছে।
কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধৃতদের জেরা করে বাকি পলাতক অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তামান্নার পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন মোট কতজন যুক্ত ছিল, তা যেন স্বচ্ছভাবে সামনে আনা হয়। রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক সক্রিয়তা এখন সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। বিচার পাওয়ার এই লড়াই দীর্ঘ হলেও, অপরাধীদের একে একে পুলিশের জালে আসা নিশ্চিত করছে যে, আইন এখন নিজের গতিতেই চলছে। বাকি অভিযুক্তরা কবে ধরা পড়ে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা কালীগঞ্জ।