চাকরির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ! গ্রেফতারির ভয়ে হাইকোর্টে ছোটেন মানস ভুঁইয়া

চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে বিদ্ধ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগী নেতা মানস ভুঁইয়া। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে এখন তোলপাড়। গ্রেফতারির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
প্রতারণার অভিযোগ ও মামলা:
পশ্চিম মেদিনীপুরের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা বিকাশ টুঙ্গ সবং থানায় মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, সেচ দপ্তরের বাংলোয় তাঁর স্ত্রীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় মোট ৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছিল। অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগও দিয়েছিলেন, কিন্তু মাত্র দুই মাস পরেই, অর্থাৎ চলতি বছরের মে মাসে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এরপরই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে বিকাশবাবু পুলিশের দারস্থ হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সবং থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩১৮(৪) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে।
হাইকোর্টে আবেদন:
আইনি জটিলতা বাড়ার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেই মানস ভুঁইয়া প্রথমে মেদিনীপুর জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ১৮ জুন শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। কোনো আইনি সুরাহা না মেলায় এবং গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি এবার কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কী বললেন মানস ভুঁইয়া?
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ৫৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু লড়াই করেছি, কিন্তু কখনও কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আমার গায়ে লাগেনি। এখন রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে।” আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করেছেন।
তদন্ত যত এগোবে, ততই মানস ভুঁইয়ার ওপর আইনি চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বর্তমানে গোটা রাজ্যবাসী তাকিয়ে রয়েছে আদালতের রায়ের দিকে। এখন দেখার, হাই কোর্ট থেকে তিনি স্বস্তি পান কি না, নাকি তদন্তের চাপে নতুন কোনো মোড় নেয় এই মামলা।