প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর রাশ! ইরান ইস্যু ঘিরে মার্কিন সেনেটে ঐতিহাসিক ভোটাভুটি

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং যুদ্ধনীতি নিয়ে বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসে আয়োজিত এক ভোটাভুটিতে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৫০ জন সাংসদ, বিপরীতে পড়েছে ৪৮টি ভোট। যদিও এই ভোটাভুটি মূলত আলঙ্কারিক বা প্রতীকী, তবুও আমেরিকার সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি বড় ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৪৫তম এবং ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এই ফলাফল মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
বর্তমানে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে এবং উভয় পক্ষই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই ডেমোক্র্যাট সাংসদ চাক স্কিমার মার্কিন সেনেটে ভোটাভুটির প্রস্তাব রাখেন। স্কিমারের দাবি, রিপাবলিকান পার্টির অনেক সাংসদই গোপনে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরোধিতা করছেন এবং ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি খারিজের পক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু প্রকাশ্যে তারা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিতে নারাজ। এই দ্বিচারিতা দূর করতেই স্কিমার প্রকাশ্যে ভোটাভুটির পথ বেছে নেন।
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ১৯৭৩ সালের একটি বিশেষ আইন, যা যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে। ওই আইন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী কোনো যুদ্ধে অংশ নিলে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদে সেই প্রস্তাব পাস করাতে হয়। এক্ষেত্রে তা না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী সাংসদরা। হোয়াইট হাউসের পাল্টা যুক্তি, ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত এপ্রিলের মধ্যেই থেমে গিয়েছে, তাই এই আইন এখানে কার্যকর নয়।
ট্রাম্পের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন সংসদের স্পিকার মাইক জনসন। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জনসন জানান, ইরান-আমেরিকা সমঝোতার প্রক্রিয়া বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। এই সময়ে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করার কোনো প্রচেষ্টা চালালে তা চলমান শান্তি চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনসনের মতে, এতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
তবে হোয়াইট হাউসের এই যুক্তি অধিকাংশ সাংসদ মেনে নিতে নারাজ। ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের দাবি, প্রশাসন যতই দাবি করুক না কেন, বাস্তবে নির্ধারিত ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে সামরিক সংঘাত চলেছে। অর্থাৎ, ১৯৭৩ সালের আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হয়েছে। যদিও ভোটাভুটির ফলাফল ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনকে ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করবে না, কিন্তু এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। সংসদীয় এই ভোটাভুটি শুধুমাত্র একটি আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে বেশি, এটি মূলত মার্কিন বিদেশনীতির ওপর প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক কড়া সতর্কবার্তা।