কেরলের খ্রিস্টান মুখ হয়েও কেন ব্রাত্য জর্জ কুরিয়েন? পদত্যাগের নেপথ্যে কি ব্যর্থতার দায়?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন কেরলের প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা সংখ্যালঘু কল্যাণ ও মৎস্য উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রিসভায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রতিনিধি হওয়ায় তাঁর এই প্রস্থান জাতীয় রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

কেন এই পদত্যাগ? জর্জ কুরিয়েনের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিয়মানুযায়ী, সদস্যপদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ৬ মাস মন্ত্রিসভার সদস্য থাকতে পারতেন, যদি তাঁকে নতুন করে রাজ্যসভায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হতো। কিন্তু গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে কিংবা নভনীত সিং বিট্টুকে পুনরায় টিকিট দেয়নি। এই ঘটনার পরই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে এল।

ব্যর্থতার দায় কি কুরিয়েনের? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জর্জ কুরিয়েনের বিদায়ে কেবল মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিই একমাত্র কারণ নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, কেরলে খ্রিস্টান ভোটের সমীকরণ মেলাতে ব্যর্থতা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরলের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মাত্র তিনটি আসন পাওয়ায় দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিজেপির প্রচার এবং জনভিত্তি তৈরিতে ব্যর্থতার দায় অনেকাংশেই কুরিয়েনের ওপর বর্তেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপিতে নতুন ‘যোগ্যতা’ নীতি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের ক্ষেত্রে এক অলিখিত নিয়ম চালু হয়েছে বলে খবর। দলের অন্দরের দাবি, কেবল নেতা হলেই হবে না, সংগঠনের কাজের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা ও ফলাফল প্রমাণ করতে হবে। কেরলের খ্রিস্টান সমাজে জনপ্রিয় নেতা হওয়া সত্ত্বেও, নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে না পারায় জর্জ কুরিয়েনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিজেপি বার্তা দিল, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে টিকে থাকতে হলে ভোটের মাঠে সাফল্য আসতেই হবে—অন্যথায় সিনিয়র নেতাদেরও জায়গা ছাড়তে হবে।