অভিষেককে ‘সাসপেন্ড’ ঋতব্রতপন্থীদের! নিউটাউনের বৈঠকে বড় পদ ফিরহাদ-অরূপের, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন নিউটাউনের এক অভিজাত পাঁচতারা হোটেল। বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীনই তৃণমূলের অন্দরে এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বাংলা। বিদ্রোহী বিধায়ক ও নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অভিষেককে সরানোর প্রস্তাব সূত্রের খবর, এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব পাশ হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই রেজোলিউশনে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও রথীন ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। কেন এই সিদ্ধান্ত? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী তিন বছর অন্তর নতুন ওয়ার্কিং কমিটি গড়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কার হাতে কত বড় দায়িত্ব? নতুন গঠিত এই কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন তৃণমূলের একঝাঁক প্রভাবশালী নেতা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা:
সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান: অরূপ রায়।
ভাইস প্রেসিডেন্ট: ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ আহমেদ খান এবং রথীন ঘোষ।
প্রেসিডেন্ট: বিপ্লব মিত্র।
জাতীয় কর্মসমিতির ১০ সদস্য: নতুন কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান এবং কাজল শেখ। পাশাপাশি, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, বিপ্লব মিত্র ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেনারেল সেক্রেটারি বা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গোপন বাসযাত্রা ও আইনি উপস্থিতিও এদিন দুপুরের দিকে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে পর্দা ঘেরা একটি বাসে করে তৃণমূল কাউন্সিলরদের একটি দল নিউটাউনের ওই হোটেলে পৌঁছায়। বিধানসভার অধিবেশন শেষ হতেই একে একে যোগ দেন হেভিওয়েট নেতারা। সূত্রের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করতে দিল্লি থেকে আসা এক আইনজীবী দলও বৈঠকে উপস্থিত ছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহ আগামী দিনে শাসকদলের সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।