ফুটপাত থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চ! অভাবের সঙ্গে লড়াই জেতা আলিরেজাই এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন নায়ক

ফুটবল মাঠে তিনি এখন এক আস্থার নাম। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখনই তিন কাঠির নিচে দাঁড়ান, তখনই বিপক্ষ দলের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। বলছিলাম ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ-এর কথা। তবে মাঠের এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প, যা হার না মানা অদম্য মানসিকতার দলিল।
স্বপ্নপূরণের কঠিন পথ: আজকের এই আলোক ঝলমলে দুনিয়ার পেছনে রয়েছে এক ভয়াবহ অতীত। একটা সময় ছিল যখন আলিরেজার মাথার ওপর কোনো ছাদ ছিল না। ফুটবল ক্লাবের বাইরে ফুটপাতে রাত কাটিয়েছেন তিনি। অভাব এমন পর্যায়ে ছিল যে, দু-বেলা দু-মুঠো খাবারের সংস্থানের জন্য তাকে বেছে নিতে হয়েছিল সাফাইকর্মীর কাজ। পিঠে দারিদ্র্যের বোঝা নিয়েও ফুটবলের প্রতি তার টান ছিল অটুট। সেই জেদ আর স্বপ্নই তাকে আজ পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ পারফরম্যান্স: বিশ্বকাপের লড়াইয়ে আলিরেজা যেন এক অপরাজেয় শক্তি। গোটা ম্যাচে তিনি গোলপোস্টের নিচে কার্যত চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলগুলোকে তিনি নস্যাৎ করেছেন অসাধারণ ক্ষিপ্রতায়। কখনো শরীর ছুঁড়ে দিয়ে ডাইভ দেওয়া, আবার কখনো বক্সের ভেতর বলকে আগলে সটান শুয়ে পড়ে বিপক্ষকে গোলবঞ্চিত করেছেন তিনি। তার প্রতিটি সেভ গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের যেমন মুগ্ধ করেছে, তেমনই বিপক্ষ দলের জন্য হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্নের কারণ।
অভাবকে জয় করার গল্প: ফুটপাতে দিন কাটানো সেই ছেলেটি আজ বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে নিজের নাম খোদাই করেছেন। প্রতিকূলতা আর অভাব যে লক্ষ্য পূরণের পথে বাধা হতে পারে না, আলিরেজা বেইরানভান্দ যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ। তার এই লড়াকু মানসিকতা কেবল ইরানের ভক্তদেরই নয়, সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।