ঝাড়খণ্ডে বড় সাফল্য! পুলিশ-PLFI সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ কুখ্যাত কমান্ডার শ্রবণ দাস, ধৃত ৬

ঝাড়খণ্ডের খুন্টি জেলায় পুলিশের বড় সাফল্য। রবিবার জারিয়াগড় থানা এলাকার তিলমি জঙ্গলে পুলিশ ও পিএলএফআই (PLFI) সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হলো সংগঠনের শীর্ষ কমান্ডার শ্রবণ দাস। এই সফল অভিযানে শ্রবণ দাস ছাড়াও পিএলএফআই-এর আরও ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল তিলমি জঙ্গলে? গোয়েন্দা সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে, তিলমি জঙ্গলে বড় কোনো নাশকতার ছক কষতে জমা হয়েছে পিএলএফআই জঙ্গিরা। এই তথ্যের ভিত্তিতে জারিয়াগড় ও কাররা পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। দুপক্ষের তীব্র গোলাগুলির মাঝেই পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম হয় কুখ্যাত কমান্ডার শ্রবণ দাস।

কী উদ্ধার করল পুলিশ? খুন্টির পুলিশ সুপার ঋষভ গার্গ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে ৪টি পিস্তল, বেশ কিছু দেশি অস্ত্র এবং এক ডজনেরও বেশি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ডায়েরিতে এলাকার বেশ কিছু ঠিকাদারের মোবাইল নম্বর এবং পরিকল্পিত অপরাধের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এটি থেকে পিএলএফআই-এর পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

কে এই শ্রবণ দাস? তোরপা ও কাররা এলাকায় রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছিল শ্রবণ দাস। রেলের নির্মাণস্থলে গুলি চালানো, আগুন লাগানো এবং বড় অঙ্কের তোলাবাজির মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত সে। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে ছিল এই কমান্ডার। তার বিরুদ্ধে পিএসএ (PSA) আইনের অধীনেও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, আহত শ্রবণ দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অধিকতর চিকিৎসার জন্য রাঁচির রিমস (RIMS) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই অভিযানে সংগঠনের কোমর অনেকটাই ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।