রেড রোড বন্ধ নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, যোগ দিবসের আগে বিকল্প রাস্তার খোঁজে প্রশাসন!

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এই কর্মসূচির জন্য কলকাতার প্রাণকেন্দ্র রেড রোড আগামী সাতদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের জেরে যেন সাধারণ নাগরিক এবং আইনজীবীদের কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার আসরে নামল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নগরপাল অজয় নন্দকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, যোগ দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ১৪ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রেড রোড যান চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে। স্বাভাবিকভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বন্ধ থাকলে কলকাতা হাইকোর্টগামী আইনজীবীদের যাতায়াত এবং শহরের নিত্যযাত্রীদের চলাচলে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।

বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্টের কর্মী এবং আইনজীবীরা যাতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে বিকল্প যাতায়াতের পথ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাফিক রুট পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্মে কোনো প্রভাব না পড়ে। শুধুমাত্র আদালত চত্বরই নয়, রেড রোড বন্ধ থাকার ফলে শহরের সাধারণ মানুষ যে ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হতে পারেন, তার জন্য পুলিশের কাছে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।

শহরের বাসিন্দারা যাতে কোনো অসুবিধা ছাড়াই তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে বলে বিচারপতি জানিয়েছেন। কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরে রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকলে যানজট হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তাই এই যানজট নিরসনে পুলিশকে আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর নির্দেশনায় পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সাধারণ নাগরিকের যাতায়াতের পথ সুগম থাকে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশকে সাধারণ আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অনুষ্ঠানের প্রয়োজন আছে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অধিকারকে খর্ব করা উচিত নয়। এখন দেখার বিষয়, কলকাতা পুলিশ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রেড রোডের বিকল্প হিসেবে কোন কোন রাস্তাগুলিকে চিহ্নিত করে এবং কীভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখে। হাইকোর্টের এই হস্তক্ষেপ প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।