যৌনপল্লিতে গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না! পুলিশের জালে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী মহিলা

বর্ধমান শহরের যৌনপল্লি থেকে এক বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের অভিযোগে ওই মহিলাকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ওই মহিলার বাড়ি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার মঠবাড়িয়া থানার তুষখালি গ্রামে।

তদন্তকারীদের দাবি, সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর মেলে যে বর্ধমান শহরের মহাজনটুলি যৌনপল্লি এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দার পরিচয়পত্র ও নথিতে বড়সড় অসঙ্গতি রয়েছে। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় ওই মহিলার নথিতে সন্দেহজনক তথ্য ধরা পড়ে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মহিলা ২০১৮ সালে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি ভিসার মেয়াদ নবীকরণ করাননি। এরপরও অবৈধভাবে দেশে থেকে যান তিনি। প্রাথমিক জেরায় ওই মহিলা জানিয়েছেন, কাজের সন্ধানে ভারতে আসার পর তিনি দালালচক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে শেষ পর্যন্ত বর্ধমানের ওই যৌনপল্লিতে আশ্রয় নেন।

বুধবার তাঁকে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়। বিদেশি নাগরিক সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা রুজু করে পুলিশ তাঁর বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানায় এবং জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে। আদালতের বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১ জুলাই তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃত ওই মহিলার ভারতে দীর্ঘসময় অবস্থানের পেছনে কোনো বড় চক্র বা নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। এই ঘটনার ফলে বর্ধমানের ওই যৌনপল্লি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।