বোলপুরে বড়সড় পুলিশি অ্যাকশন! ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

বীরভূমের রাজনৈতিক ময়দানে ফের চাঞ্চল্য। ভোট-পরবর্তী হিংসার এক পুরনো মামলায় গ্রেফতার হলেন বোলপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা ইন্দ্রজিৎ রায়, যিনি স্থানীয় মহলে ‘হারু’ নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ফেরার থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। হুগলির বলাগড় এলাকা থেকে বোলপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে কঠোর নিরাপত্তায় বোলপুরে নিয়ে আসে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে। সেই সময় বীরভূমের নানুর ও বোলপুর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়েই বিজেপি নেতা সুনীল সাঁতরার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সুনীল সাঁতরার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ব্যাপক লুটপাট করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম উঠে এসেছিল ইন্দ্রজিৎ রায়ের। নির্বাচনের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই বোলপুর থানার একটি বিশেষ দল হুগলির বলাগড় এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে থাকার সময় তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার পরপরই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন রাজ্যজুড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাগুলোর তদন্তে সিবিআই ও এসআইটি সক্রিয়, সেই আবহে তৃণমূল নেতার এই গ্রেফতারি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুলিশি জেরার মুখে তৃণমূল নেতা কী তথ্য দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলা নেতৃত্ব। ইন্দ্রজিৎকে আজই বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইবে বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বীরভূমের মতো উত্তপ্ত জেলায় তৃণমূলের এই স্তরের নেতাদের গ্রেফতারি শাসক দলের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া শুরু হল, যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।