মহারাষ্ট্রে নতুন করে ‘অপারেশন টাইগার’ জল্পনা! উদ্ধব ঠাকরের পাশে থাকার বার্তা সাংসদ রাজভাউয়ের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও অস্থিরতার মেঘ। শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর অন্দরে দলত্যাগের গুঞ্জনের মাঝে এবার সরব হলেন লোকসভা সাংসদ রাজভাউ পরাগ প্রকাশ ওয়াজে। সমস্ত জল্পনা খারিজ করে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি দলনেতা উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেই আছেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁর অনুগত থাকবেন। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, উদ্ধব শিবিরের বেশ কয়েকজন সাংসদ একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এই প্রতিবেদনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়াজে। তিনি বলেন, “দলের সভায় আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি, আমি ঠাকরের সঙ্গেই রয়েছি।”

অন্যদিকে, দলের আরেক বর্ষীয়ান সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আলোচিত “অপারেশন টাইগার”-এর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, গত ১৪ জুন উদ্ধব ঠাকরের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের সকল সাংসদ উপস্থিত ছিলেন, যা ঐক্যেরই প্রমাণ দেয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, শিবসেনা (ইউবিটি)-র নয়জন সাংসদের মধ্যে সাতজনই শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন এবং যে কোনো মুহূর্তে শাসক জোটে যোগ দিতে পারেন।

এই বিষয়ে বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতা এবং রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে জানিয়েছেন, দলের অন্দরে ভাঙনের দায় সম্পূর্ণ উদ্ধব ঠাকরের। তাঁর কথায়, “সাংসদ বা বিধায়করা কেন দল ছাড়ছেন, তা উদ্ধববাবুরই বোঝা উচিত। যদি তাঁরা একনাথ শিন্ডের নেতৃত্ব মেনে নিতে চান, তবে তা একান্তই তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।” পাশাপাশি, সাংসদদের দলবদলের জন্য ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার যে অভিযোগ সঞ্জয় রাউত তুলেছিলেন, তা-ও কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাওয়ানকুলে। তাঁর মতে, কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।

জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাব্য দলবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কি এই তোড়জোড়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবসেনার একাংশ যদি এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে সংসদে ক্ষমতাসীন জোটের সংখ্যাগত শক্তি ৩২০-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে মোদী সরকার আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করতে পারবে। মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক নাটকের পরবর্তী দৃশ্য কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।