সুপার এল নিনোর ছোবলে নাজেহাল বাংলা, বর্ষা কি তবে অধরাই? জানুন আবহাওয়া দফতরের নতুন বার্তা

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং ভারতের আবহাওয়া দফতরের (IMD) সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে উঠে এল এক উদ্বেগজনক চিত্র। প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট তীব্র ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño)-র সরাসরি প্রভাবে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া ও কৃষি ব্যবস্থা। স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তীব্র গরমের দাপটে নাভিশ্বাস উঠছে রাজ্যবাসীর।

বর্ষার খামখেয়ালিপনা ও বৃষ্টির ঘাটতি
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এল নিনোর প্রভাবে এ বছর ভারতে সামগ্রিক মৌসুমী বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে (LPA-এর ৯০ শতাংশ)। উত্তরবঙ্গে বর্ষা কিছুটা সক্রিয় হলেও, দক্ষিণবঙ্গে এল নিনোর কারণে মৌসুমী বায়ুর প্রবেশে দেরি হচ্ছে। এর ফলে নদী-নালা ও জলাশয়গুলি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে।

তীব্র তাপপ্রবাহ ও রিয়েল ফিল অস্বস্তি
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা বজায় রয়েছে। বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে পারদ ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাফেরা করলেও, ‘রিয়েল ফিল’ বা অস্বস্তি সূচক ৪৫ থেকে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দুই মেদিনীপুরে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে অশনি সংকেত
এল নিনোর ছায়া সবচেয়ে বেশি পড়েছে আমন ধান এবং খারিফ শস্যের ওপর। জুনের মাঝামাঝি পেরিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার কৃষিপ্রধান গ্রামগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে গেছে। পুকুর শুকিয়ে খেত ফেটে চৌচির হওয়ায় সেচের জল পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

উত্তরবঙ্গে বিপরীত পরিস্থিতি
দক্ষিণ ও পশ্চিম যখন খরায় ভুগছে, তখন দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে চিত্রটা সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে মৌসুমী বায়ু আটকে গিয়ে অতি ভারী বর্ষণ ও ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, রাজ্যের ভৌগোলিক বৈপরীত্যে এল নিনোর প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের চরিত্র বদল
এল নিনো সক্রিয় থাকায় বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা সাইক্লোনগুলি স্বাভাবিক গতিপথ হারাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় জেলাগুলিতে একটানা বৃষ্টির পরিবর্তে বিক্ষিপ্ত কালবৈশাখীর প্রকোপ বাড়ছে। তবে আশার আলো দেখাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। যদি ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) অনুকূল হয়, তবে জুলাই বা আগস্ট মাসে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে।

বর্তমানে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সপ্তাহান্তে, অর্থাৎ ২০ জুনের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে, যা গরমের অস্বস্তি থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে পারে। রাজ্য কৃষি দফতর কৃষকদের কম জল লাগে এমন ফসল ফলানোর পরামর্শ দিচ্ছে।