তালা ভেঙে অদিতি মুন্সির অফিসে হানা তরুণজ্যোতির! উদ্ধার শাড়ি-ছাতা ও ভোটের গোপন নথি

উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অন্দরমহলে রীতিমতো তোলপাড়। রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির পার্টি অফিসে হানা দিলেন বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। বাগুইআটিতে অবস্থিত প্রাক্তন বিধায়কের এই অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং ভোট সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রাক্তন বিধায়কের অফিসে বেআইনি কার্যকলাপ চলছে—এমন সন্দেহে বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অনুগামীদের নিয়ে বাগুইআটিতে অদিতি মুন্সির অফিসে পৌঁছান। এরপর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরেও অফিসের দরজা না খোলায়, বিজেপি কর্মীরা ইট দিয়ে পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অফিসে ঢোকার পরেই অবাক হয়ে যান উপস্থিত সকলেই।

অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়কের এই দলীয় কার্যালয়টি যেন ত্রাণসামগ্রীর গুদামে পরিণত হয়েছিল। তল্লাশি চালিয়ে সেখানে থেকে উদ্ধার করা হয় প্রচুর পরিমাণে ত্রিপল, শাড়ি, ছাতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। স্থানীয়দের দাবি, এই সমস্ত সামগ্রী সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হলেও তা অসাধু উপায়ে পার্টি অফিসে মজুত করে রাখা হয়েছিল। শুধু ত্রাণসামগ্রীই নয়, উদ্ধার হওয়া নথিপত্রের স্তূপ দেখেও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া কাগজের মধ্যে ভোটার তালিকা এবং ভোট সংক্রান্ত গোপনীয় নথিপত্র রয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পরই এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনী। যদিও ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে অদিতি মুন্সি উপস্থিত ছিলেন না। এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমি নিজে কোনো আইন হাতে তুলে নিতে চাইনি। কিন্তু সাধারণ মানুষের করের টাকায় কেনা এই সমস্ত সামগ্রী যখন ব্যক্তিগত পার্টি অফিসে মজুত করে রাখা হয়, তখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সরকারি সম্পত্তি এভাবে লুঠ হতে দেওয়া যায় না।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক অভিসন্ধি’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, অফিসের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা এবং জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা সম্পূর্ণ বেআইনি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সামগ্রীগুলো এলাকার দরিদ্র মানুষদের সহায়তার জন্য রাখা ছিল। অহেতুক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্যই বিজেপি এমন নাটক করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনায় সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ভোটের অনেক আগেই এই সামগ্রীগুলো মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, কিন্তু তা না করে দিনের পর দিন অফিসে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল।

বর্তমানে বাগুইআটি থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পার্টি অফিসটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে নথিপত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়কের মধ্যেকার রাজনৈতিক বৈরিতা বাড়িয়ে দিল, তেমনই সরকারি ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির পুরনো অভিযোগকেও নতুন করে উসকে দিল। আপাতত রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy