সুস্মিতা দেবের পদত্যাগেই কি তৃণমূলে অশনি সংকেত? বিপাকে অসমের বিধায়ক শেরমন আলি!

অসমের রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেবের আচমকা পদত্যাগ এবং দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির জেরে সবথেকে বেশি সংকটে পড়েছেন অসমের মান্ডিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক শেরমন আলি আহমেদ। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্থানীয় স্তরে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে মান্ডিয়া কেন্দ্র থেকে ২৭,৫৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে অসমে তৃণমূলের জয়ের ধারা ফিরিয়েছিলেন শেরমন আলি। কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ ও সমর্থনের জোরেই তৃণমূল অসমে অক্সিজেন পেয়েছিল। কিন্তু এখন সুস্মিতা দেবের দলত্যাগের পর থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বিধায়ক। ফলে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে অলোক ঘোষের পর ২০১১ সালে দ্বীপেন পাঠক জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর অসমে তৃণমূলের জন্য সাফল্য ছিল অধরা। শেরমন আলি আহমেদের হাত ধরে অবশেষে ঘাসফুল ফুটলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে সেই অস্তিত্ব এখন প্রশ্নের মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতি মোহভঙ্গ এবং সুস্মিতা দেবের পদক্ষেপে অসমের তৃণমূল কর্মীরা কার্যত ছত্রভঙ্গ। এই অবস্থায় বিধায়ক শেরমন আলি আহমেদ পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী নেবেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy