গালফ অব ওমানের উত্তাল জলসীমায় পালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি সেট্টেবেলো (MT Settebello)-তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় নিখোঁজ তিন ভারতীয় নাবিকেরই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্মান্তিক খবর নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা ভারতের সামুদ্রিক শিল্প ও পরিবারের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক আবেগঘন বার্তায় মন্ত্রী সোনওয়াল জানান, দীর্ঘ তল্লাশির পর ওই তিন নাবিকের মৃতদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি গভীর শোকপ্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক স্তরে যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে, ওই জাহাজে থাকা বাকি ২১ জন ভারতীয় নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করে যে, এমটি সেট্টেবেলো জাহাজটি তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করছিল এবং ইরান থেকে তেল বহন করছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই জাহাজটির ওপর ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়। এই আক্রমণের অভিঘাতে জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা উদ্ধারকাজে প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় ভারত সরকার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশনকে তলব করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ফরওয়ার্ড সিমেন্স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (FSUI)-এর সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন ছিল। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মৃতদের মধ্যে জাহাজের প্রধান প্রকৌশলীও (Chief Engineer) ছিলেন। মৃত নাবিকদের বাড়ি যথাক্রমে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া এবং অন্ধ্রপ্রদেশে বলে জানা গেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই হামলার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আন্তর্জাতিক জলসীমার নিরাপত্তার পরিপন্থী। ভারত এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের দাবি জানিয়েছে। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিরন্তর প্রচেষ্টায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক মহলে এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য দ্রুত দেশে ফেরানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।





