বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন আবারও শিরোনামে, তবে এবার কোনো সিনেমার সাফল্য বা ব্যক্তিগত কারণে নয়, বরং জড়িয়ে পড়েছেন এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে। কর্ণাটকের প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার ‘শিবম অ্যাসোসিয়েটস’ বিনিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড় চলছে গোটা দেশে। এই মামলার তদন্তে নেমেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID)-র নজরে পড়েছেন সানি লিওন। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করতেই অভিনেত্রীকে তথ্য প্রদানের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, শিবম অ্যাসোসিয়েটসের প্রোমোটার শিবানন্দ নীলান্নাভার এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ লক্ষ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধ আমানত ও বিনিয়োগ প্রকল্পের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সিআইডি বর্তমানে এই বিশাল প্রতারণা চক্রের নেটওয়ার্ক এবং কালো টাকার গতিপথ বিশ্লেষণ করছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে এসে গোয়েন্দারা লক্ষ্য করেন যে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত শিবানন্দ নীলান্নাভার প্রযোজিত ২০২৩ সালের কন্নড় ছবি ‘চ্যাম্পিয়ন’-এ একটি বিশেষ গানে পারফর্ম করেছিলেন সানি লিওন।
সূত্রের খবর, ওই সিনেমার ‘ডিঙ্গারা বিল্লি নানু’ গানে অভিনয়ের জন্য সানি লিওনকে প্রায় ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল। সিআইডি এখন খতিয়ে দেখছে, এই ১ কোটি টাকা কোন উৎস থেকে এসেছিল এবং কীভাবে তা অভিনেত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ সানিকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ।
তবে, সানি লিওনের অনুরাগীদের চিন্তার কোনো কারণ নেই বলেই আভাস দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। সিআইডি আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই নোটিশটি নিছকই তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আপাতত কোনো প্রকার জালিয়াতি বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়নি। সংস্থাটির একমাত্র লক্ষ্য হলো, শিবম অ্যাসোসিয়েটসের আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি লেনদেনের হদিস বের করা।
তদন্তকারী এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “আমরা অভিনেত্রীকে অভিযুক্ত হিসেবে ডাকিনি। আমরা কেবল জানতে চাইছি যে ওই সিনেমার প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরা তাঁকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোন চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিলেন।” প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উচ্চ প্রোফাইল কেলেঙ্কারির তদন্তে বিনোদন জগতের অনেক তারকাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার সানি লিওনের বিষয়টিও সেই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতারণার শিকার হওয়া চার লক্ষ মানুষের টাকা উদ্ধার করতে সিআইডি এখন এই আর্থিক জাল বিছানো প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছে। আপাতত সানি লিওন তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।





