টেলিভিশনের দুনিয়ায় প্রতিদিনের কাজের চাপ কতটা, তা সাধারণ দর্শকদের কাছে বরাবরই অজানার আড়ালে থেকে যায়। তবে সম্প্রতি ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’-র সেটে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা শিল্পীদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং লড়াইয়ের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ধারাবাহিকের মূল দুই চরিত্র আরাত্রিকা মাইতি এবং অভিষেক বীর শর্মার পেশাদারিত্ব এখন টেলিপাড়ার অন্দরে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সম্প্রতি মুখ্য চরিত্র ‘উজি’-র ভূমিকায় অভিনয় করা আরাত্রিকা মাইতির অসুস্থ শরীর ও ভাঙা গলা নিয়ে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার ঘটনা দর্শকদের মন জয় করেছিল। সেই রেশ কাটার আগেই আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ধারাবাহিকের নায়ক ‘ঋষি’ অর্থাৎ অভিনেতা অভিষেক বীর শর্মা। সূত্রের খবর, শুটিং চলাকালীন পায়ে গুরুতর চোট পান তিনি। সাধারণ পরিস্থিতিতে যেখানে দীর্ঘ বিশ্রামের প্রয়োজন, সেখানে অভিষেক শুটিং থেকে বিন্দুমাত্র বিরতি নেওয়ার কথা ভাবেননি। শুধু সাধারণ দৃশ্যই নয়, শারীরিক প্রচণ্ড যন্ত্রণা সহ্য করেও তিনি ক্যামেরার সামনে একের পর এক অ্যাকশন দৃশ্য নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সেটের কলাকুশলীদের মতে, শুটিংয়ের ব্যস্ততায় তাঁর শারীরিক কষ্টের বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি কেউ। তাঁর এই নিরলস নিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন খোদ তাঁরই সহ-অভিনেত্রী চাঁদনি সাহা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করে তিনি পুরো টিমের কঠোর পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেছেন। চাঁদনি লিখেছেন, ‘জোয়ার ভাঁটা’-র প্রতিটি শিল্পী নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য কতটা মরিয়া, তা এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে। আরাত্রিকার মতো অভিষেকও পায়ের চোটকে পাত্তাই দেয়নি। এমন সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি গর্বিত এবং তাঁদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, টেলিভিশনের দৈনিক ধারাবাহিক বা মেগা সিরিয়ালের জগতে সময়ের কাঁটা বড়ই নিষ্ঠুর। নির্দিষ্ট সময়ে এপিসোড জমা দেওয়ার চাপের কারণে শুটিংয়ের সূচিতে পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় ব্যক্তিগত অসুস্থতা বা বড় কোনো দুর্ঘটনাতেও শিল্পীদের ক্যামেরা ফেস করতে হয়। ‘জোয়ার ভাঁটা’-র টিম এই চাপের মুখেও যেভাবে অবিচল থেকে দর্শকদের সেরা বিনোদন উপহার দিচ্ছে, তা প্রশংসনীয়।
বর্তমানে টিআরপি তালিকায় ধারাবাহিকটি যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে শিল্পীদের এই আড়ালে থাকা লড়াই। আরাত্রিকার ভাঙা গলায় সংলাপ হোক কিংবা অভিষেকের চোট নিয়ে লড়াই—এই ছোট ছোট ঘটনাগুলিই বুঝিয়ে দেয়, পর্দার ওপরের কয়েক মিনিটের বিনোদনের পেছনে শিল্পীদের ঘাম ও রক্ত কতখানি মিশে থাকে। আপাতত, তাঁদের এই লড়াকু মানসিকতা ভক্তদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





