দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের আলিপুর অফিসে বুধবার রাতের অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের চারতলার কনফারেন্স রুম থেকে শুরু হওয়া এই আগুন কেন এবং কীভাবে বহুতলের ৯ এবং ১০ তলায় ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে জনমনে এখন হাজারো প্রশ্ন। বিশেষ করে এই অফিসের সঙ্গে যুক্ত জাহাঙ্গির খান বর্তমানে এসটিএফ-এর হেফাজতে থাকায় অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছেন সমালোচকরা।
জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ অফিসের চারতলায় প্রথম কালো ধোঁয়া দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডকে কেবল দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা রাকেশ সিং সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেছেন, “পাপ ঢাকতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
অগ্নিকাণ্ডের ধরণ নিয়ে দমকলের অন্দরমহলেও উঠছে প্রশ্ন। আগুন নেভানোর কাজ শুরু করার সময়ই বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। অথচ, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ফের ৯ এবং ১০ তলায় আগুনের শিখা দেখা যায়। দমকলের একাংশ এটিকে ‘আনইউজুয়াল ফায়ার’ বা অস্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৯ এবং ১০ তলায় আগুন লাগার কোনো স্বাভাবিক ‘ট্রাভেল রুট’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৯ তলায় মিড ডে মিল সেকশন এবং ১০ তলায় রয়েছে আলিপুর সদরের স্ট্রং রুম, যেখানে কসবা, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব-পশ্চিম, মেটিয়াবুরুজ এবং টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম (EVM) সংরক্ষিত রয়েছে।
সবচেয়ে রহস্যময় বিষয় হলো, চারতলায় আগুন লাগলেও মাঝখানের ৬, ৭ এবং ৮ তলায় বিশেষ কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তাহলে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ৯ এবং ১০ তলায় আগুন পৌঁছাল কী করে? এই প্রশ্ন এখন তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। ইভিএম সুরক্ষিত রাখার স্ট্রং রুমের এত কাছে আগুন লাগার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ঘটনাস্থল থেকে কোনো দাহ্য পদার্থ বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও দমকল বাহিনী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে। সরকারি নথিপত্র এবং স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এই অগ্নিকাণ্ড কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বড়সড় চক্রান্ত? তা স্পষ্ট করতে ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টই হবে শেষ ভরসা।





