একুশের জয়ের পর থেকে একের পর এক ধাক্কায় জেরবার তৃণমূল কংগ্রেস। ৬৪ জন বিধায়কের পর এবার বিদ্রোহের আগুনে জ্বলছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা জানিয়ে দলের ১৯ জন সাংসদ সরাসরি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ এবং শত্রুঘ্ন সিনহার মতো হেভিওয়েট নেতারা।
প্রকাশ্যে বিদ্রোহীদের তালিকা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে সেই ১৯ জন সাংসদের নাম, যারা লোকসভার স্পিকারকে চিঠিতে স্বাক্ষর করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তালিকায় থাকা সাংসদরা হলেন:
কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মালা রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, শত্রুঘ্ন সিনহা, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, ডঃ শর্মিলা সরকার, জগদীশ বসুনিয়া, খলিলুর রহমান, আবু তাহির খান, বাপি হালদার, মিতালী বাগ, কালীপদ সোরেন এবং অসিত কুমার মাল।
রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত নেতা থেকে শুরু করে তারকা সাংসদ— সবার এহেন বিদ্রোহ তৃণমূলের অন্দরে যে চূড়ান্ত অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে মালা রায়ের মতো নেত্রীর দলত্যাগ বা বিদ্রোহের ইঙ্গিত তৃণমূলের জন্য এক বড় নৈতিক পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে সূত্রের খবর, দলের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ আলগা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হওয়া এই ফাটল এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে? তৃণমূলের অন্দরে মমতা-অভিষেক শিবিরের বিরুদ্ধে এই বিপুল সংখ্যক সাংসদের বিদ্রোহে এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি দল ভাঙনের মুখে? এই বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এবং এর ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো কতটা ভেঙে পড়ে, এখন সেটাই বড় আলোচনার বিষয়। রাজ্য রাজনীতিতে যে এক বিরাট পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে, তা এই তালিকার প্রকাশ্যে আসার পরেই স্পষ্ট হয়ে গেল।





