রাজ্যের সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) ২ শতাংশ বৃদ্ধির সরকারি অনুমোদন মিলেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কর্মীদের ডিএ বর্তমানে ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাল। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘোষণার ফলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা এবং মহার্ঘ ত্রাণ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, কর্মীরা বকেয়া সহ বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন। তবে, হাতে কলমে বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে কর্মীদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জানা গিয়েছে, জুন মাসের বেতনের সঙ্গে জুলাই মাসে বকেয়া সমেত এই বাড়তি টাকা কর্মীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে।
মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সরকারি কর্মীদের সুরক্ষা দিতেই ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা প্রদান করা হয়। বাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকার নিয়মিত বিরতিতে ডিএ বাড়িয়ে থাকে। একই নীতি অনুসরণ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য ডিআর বা ডিয়ারনেস রিলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মীদের মাসিক আয়ে একটি বড় রকমের পরিবর্তন আসবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কর্মীর মূল বেতন ৩০,০০০ টাকা হয়, তবে ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ফলে তিনি প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা করে পাবেন। একইভাবে, ৫০,০০০ টাকা মূল বেতন হলে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা করে আয় বৃদ্ধি পাবে। বার্ষিক ভিত্তিতে এই অঙ্কটি কর্মীদের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ডিএ বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত কর্মী মহলে ব্যাপক স্বস্তি ও খুশির সঞ্চার করেছে।
পেনশনভোগীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মাসিক পেনশন যেহেতু ডিআর-এর ওপর নির্ভরশীল, তাই ৫৮ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ হারে ডিআর বৃদ্ধির ফলে তাঁদের মাসিক পেনশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্য বর্তমানে সরকারি কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করছে, যার মধ্যে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন সরকারি কর্মীদের দৃষ্টি জুলাই মাসের বেতন স্লিপের দিকে। সরকারের এই পদক্ষেপকে চলতি বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জনহিতকর ও কর্মীবান্ধব’ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। জুলাই মাস থেকে কার্যকর হতে চলা এই বর্ধিত বেতন কাঠামো কর্মীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেকটাই বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।





