‘ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে জেল নিশ্চিত!’, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া বার্তা দিয়ে বড় পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ‘টাস্ক ফোর্স’ (Task Force) গঠন করল কেন্দ্র সরকার। আর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্যানেলের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ তথা ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির হাতে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া বার্তা ও ঘোষণা

নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার বিষয়ে সরকারের অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়ে জানান, যাঁরা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের আজ কঠোর শাস্তি হয়েছে এবং তাঁরা জেলে রয়েছেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরহস্তে দমন করতে সরকার ইতিমধ্যেই ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ বা বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে এবং সংসদে নতুন কঠোর আইন আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরীক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ করে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী কাজ করবে এই টাস্ক ফোর্স?

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ টাস্ক ফোর্স খুব শীঘ্রই পরীক্ষা সংস্কারের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দিক খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখবে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মূল্যবান সুপারিশ ও রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেবে তারা।

এই প্যানেলের সুপারিশ ও প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আসন্ন পরীক্ষাগুলোর সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কেন্দ্র। দেশজুড়ে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের বিতর্কের অবসান ঘটাতে কেন্দ্রের এই হাই-প্রোফাইল টাস্ক ফোর্স গঠন বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহল।