৭২ লক্ষের তছরুপ থেকে ১২০ টাকার লিজ! টাকি পুরসভার দুর্নীতির পর্দাফাঁস, তোলপাড় রাজ্য

সরকারের পরিবর্তনের আবহেই প্রকাশ্যে এল টাকি পুরসভার আর্থিক অনিয়মের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুরসভার আর্থিক দুর্নীতি ও নিয়মবহির্ভূত বোর্ড পরিচালনার অভিযোগে এবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন টাকি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য-প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। চলতি সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

কেন এই মামলা? প্রদ্যুৎ দাসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পরিচালিত এই পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে তিনি সরব ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি, উল্টে জুটেছিল হুমকি ও শাসানি। অবশেষে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটলেন তিনি।

অডিট রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য আইনজীবী ওমর ফারুক গাজীর দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের অডিট রিপোর্টে পুরসভার নজিরবিহীন দুর্নীতির খতিয়ান উঠে এসেছে। প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বিপুল আর্থিক তছরুপ: তৎকালীন পুরসভার এক ‘লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক’-এর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা জমা পড়েছে, যা পুর আইনের চূড়ান্ত পরিপন্থী।

  • ইছামতির ভাসমান রেস্তোরাঁ: ভাসমান রেস্তোরাঁ নির্মাণের নামে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন পুরবোর্ডের বিরুদ্ধে।

  • জমি ও লিজ নিয়ে জালিয়াতি: ‘সোনার বাংলা’ হোটেলের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১২০ টাকা বার্ষিক লিজে জমি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, ৪ বিঘা জমি মাত্র ৪২০ টাকার লিজে ‘ইটভাটা’র ব্যবসাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অডিট রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নিয়ম বা বোর্ড অফ কাউন্সিলরের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর পুরসভার সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত লাভের কাজে ব্যবহারের এই ঘটনায় বিরোধীদের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্যে সরকারি জমি লিজ দেওয়ার পেছনে পুর প্রশাসনের বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের কারসাজি রয়েছে। একদিকে অডিট রিপোর্টের তথ্য এবং অন্যদিকে তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা ও হাইকোর্টে মামলা—সব মিলিয়ে টাকি পুরসভার অন্দরে এখন অস্বস্তির ছায়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy