দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকার অগ্নিকাণ্ড যেন এক অন্তহীন ট্র্যাজেডির নাম। মঙ্গলবার সকালে ৭৮ বছর বয়সী রাধেশ্যাম আগরওয়ালের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল গুরুগ্রামের একটি সুপরিচিত পরিবার। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে এর আগেই পরিবারের আটজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন, আর এবার পরিবারের প্রধান রাধেশ্যামের প্রয়াণে সেই তালিকাটি দীর্ঘতর ও শোকাবহ হয়ে উঠল।
গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এর বাসিন্দা রাধেশ্যাম আগরওয়াল শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে গত ৩০ মে তাঁকে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। রাধেশ্যামের চিকিৎসার সুবিধার জন্যই তাঁর ছেলে বিবেক আগরওয়াল হাসপাতালের কাছে হাউজ রানি এলাকার একটি আবাসিক অতিথিশালায় পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। আত্মীয়-পরিজনেরাও রোগীর দেখাশোনা ও তাঁর সুস্থতার প্রার্থনায় দিল্লির ওই অতিথিশালায় এসে জড়ো হয়েছিলেন।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, ৩ জুন ভোরে সেই অতিথিশালায় লাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগুনের গ্রাসে মুহূর্তেই বদলে যায় গোটা পরিবারের ভাগ্য। সেই ঘটনায় প্রাণ হারান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক আগরওয়াল, তাঁর স্ত্রী তরজনি আগরওয়াল, দুই শিশু কন্যা জীবিশা ও ভারিয়া এবং বিবেকের মা প্রেমলতা আগরওয়াল। এছাড়াও নিহত হন বিবেকের মামা অশোক গোয়েল, মাসি কমলা এবং তাঁর স্বামী জাবরি লাল। এক ভয়াবহ ভোরে পরিবারের আটজন সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। রাধেশ্যামের সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা পরিবারটি মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রায় সওয়া ১১টা নাগাদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাধেশ্যাম। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সকলেই রাধেশ্যামের সুস্থতার জন্য দিনরাত প্রার্থনা করছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের বেডে থাকাকালীনই তিনি তাঁর ছেলে, পুত্রবধূ, নাতনি এবং স্ত্রীসহ পরিবারের প্রায় অধিকাংশ সদস্যের মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে আজও সংশয় রয়েছে। পরিবারের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে রাধেশ্যামের প্রয়াণ এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।
এই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন অতিথিশালা পরিচালনার বৈধতা এবং অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে একটি আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে এই ধরনের অতিথিশালা পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা ছিল কি না। এই ভয়াবহ ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি পরিবারের বিনাশ ঘটায়নি, বরং দিল্লির আবাসন ও হোটেল ব্যবসার নিরাপত্তার অভাবকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গোটা পরিবারটির এমন মর্মান্তিক বিলুপ্তি এলাকার বাসিন্দাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত চলছে, তবে সেই তদন্তের রিপোর্টে যাই বেরিয়ে আসুক না কেন, আগরওয়াল পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।





