গত সাড়ে তিন মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে চরম আকার ধারণ করল। সোমবার ওমান উপকূলে একটি মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের ওপর বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন সেনা। এই ঘটনার পর নতুন করে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার, যখন হরমুজ প্রণালীর কাছে টহলরত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার হঠাৎ বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ইরান কোনো প্ররোচনা ছাড়াই ওই হেলিকপ্টারটি গুলি করে নামিয়েছে। যদিও হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমেরিকার ওপর এই আগ্রাসনের কড়া প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পরেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ শুরু করে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “এই সামরিক অভিযানটি ইরানের বিনা উস্কানিতে চালানো আগ্রাসনের একটি যথাযথ ও কঠোর জবাব।” সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত এলাকায় অবস্থিত ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, তারা কোনো মার্কিন হেলিকপ্টার গুলি করে নামায়নি। উল্টো ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, তেহরানে নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবং অহেতুক সামরিক উত্তেজনা তৈরির জন্য ট্রাম্প মিথ্যা অজুহাত তৈরি করেছেন। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চালানো এই হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায়, এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যখন শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, ঠিক সেই সময়ে এই নতুন সামরিক অভিযান শান্তি প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। দুই দেশের এই সংঘাত এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু।





