লোকসভার অন্দরে তৃণমূলের অন্দরে এবার সরাসরি ভাঙনের সুর। সোমবার দিল্লির রাজনীতিতে নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করলেন তৃণমূলের এক ডজনেরও বেশি বিদ্রোহী সাংসদ। সূত্রের খবর, এই বৈঠকের পর লোকসভার ২০ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ (NDA)-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি জমা দিয়েছেন।
কারা থাকলেন এই বৈঠকে? এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সোমবার সকালে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়, আবু তাহের, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, শর্মিলা সরকার, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিকের মতো নেতারা। এমনকি দেব, জুন মালিয়া ও ইউসুফ পাঠানের মতো তারকা সাংসদদের উপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিষেক-সুদীপদের অনুপস্থিতি অন্যদিকে, দলীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই বৈঠকে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের পরিচিত মুখ—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং সৌগত রায় অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নব-মনোনীত কমিটিতে থাকা সাজদা আহমেদ এবং মালা রায়ও এই বিদ্রোহী শিবিরে নেই বলেই প্রাথমিক অনুমান।
কী বলছেন বিদ্রোহী সাংসদরা? সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের রায়কে তারা মান্যতা দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “আমরা মনে করছি, বাংলার উন্নয়নের স্বার্থেই ভবিষ্যতে আমাদের এনডিএ-র সঙ্গে জোট বেঁধে এগোনো প্রয়োজন।”
আইনি জটিলতা ও সমীকরণ তৃণমূলের লোকসভায় মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮। দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে লোকসভায় কোনও ভাঙন ধরাতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ১৯ জনের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। সেই হিসাব কষেই ২০ জন সাংসদ একজোট হয়ে স্পিকারের কাছে দরবার করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই দাবি বা বৈঠকের বৈধতা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
সংসদের অন্দরে তৃণমূলের এই বড়সড় ভাঙন এবং এনডিএ-র দিকে ঝোঁকার এই ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





