আমেরিকার মাটিতে ফের নৃশংস হত্যার শিকার হলেন এক ভারতীয় যুবক। ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় ‘ভুয়ো’ পিৎজা ডেলিভারির ফাঁদে ফেলে মাথায় গুলি করে খুন করা হয়েছে ২৮ বছর বয়সী আনশুল কুঞ্চাকে। মৃত আনশুল তেলঙ্গানার গুন্ডলপোচামপল্লী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র ও চাকুরিজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।
কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা? উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়া আনশুল গত চার বছর ধরে সেখানে একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। বাড়তি আয়ের জন্য সপ্তাহান্তে পার্ট-টাইম ডেলিভারির কাজ করতেন তিনি। শনিবার রাতে ফিলাডেলফিয়ার একটি জায়গা থেকে পিৎজার অর্ডার পান তিনি। আনশুলের বোন তানভির অভিযোগ, একটি পরিত্যক্ত এলাকায় তাঁকে নির্দিষ্ট ডেলিভারির কথা বলে পরিকল্পিতভাবেই ডেকে আনা হয়। সেখানে পৌঁছাতেই কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর মাথায় একাধিক গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
লুটের ঘটনা নয়, সন্দেহের তালিকায় বর্ণবিদ্বেষ: পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে— আততায়ীরা আনশুলের নগদ টাকা বা কোনো মূল্যবান সামগ্রী লুট করেনি। ফলে এটি কেবল একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই খুনের নেপথ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক কোনো কারণ থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার জানিয়েছে, অতীতেও একবার আমেরিকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছিলেন আনশুল।
কূটনৈতিক তৎপরতা: নিহত আনশুলের বোনের আকুতি, “সব বাবা-মাকে বলব, সন্তানদের আর আমেরিকায় পাঠাবেন না।” নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, আনশুলের মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় একের পর এক ভারতীয়ের ওপর হামলার ঘটনায় প্রবাসী মহলে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, দুই দেশের প্রশাসন যদি নিরাপত্তার বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই সমস্যার সমাধান অসম্ভব।





