বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পাটগ্রাম উপজেলায় আবারও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিএসএফ জওয়ান এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের উপক্রম হয়। সীমান্ত পেরিয়ে বিএসএফের প্রবেশের অভিযোগ তুলে শতাধিক মানুষ লাঠি-সোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন জওয়ানদের ওপর। ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকা ধোবালগুড়ি, কলসিরমুখ ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকেই সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালের দিকে বিএসএফের একটি দল সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লাইন অফ কন্ট্রোল অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করে। এই দৃশ্য দেখেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ দলবদ্ধভাবে সীমান্তের দিকে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উত্তেজিত জনতা বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে চিৎকার শুরু করেন এবং তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করার জন্য এগিয়ে যান। এ সময় বেশ কয়েকজন যুবক জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ ধারণের উপক্রম হলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
অন্যদিকে, বিএসএফের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সরকারি কাজ সম্পন্ন করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। এই কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই তারা ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, তারা বিএসএফের এই অনধিকার চর্চা মেনে নেবেন না।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঠিক আগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। বিজিবি জওয়ানদের কঠোর অবস্থান এবং হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হলেও, সীমান্তজুড়ে এখন চরম উদ্বেগ কাজ করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। সম্প্রতি সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী প্রায় ৬০০ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোখার জন্য এই বেড়া নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। আবার অন্য অংশের মতে, সীমান্তবর্তী জমি অধিগ্রহণ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ। সীমান্তে বেড়া নির্মাণের ফলে চিরতরে অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে—বাংলাদেশের একাংশের বাসিন্দাদের মনে এই আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে। আর সেই উৎকণ্ঠাতেই বারবার বিএসএফের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা। আপাতত সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।





