বাজারে নগদের অভাব নেই, অথচ সাধারণ মানুষ টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ফিরছেন খালি হাতে! দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এটিএম পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর আসার পর নড়েচড়ে বসল ‘কনফেডারেশন অফ এটিএম ইন্ডাস্ট্রি’ (CATMi)। কেন ঘটছে এমনটা? এর পেছনে উঠে আসছে সাপ্লাই চেইন সমস্যা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক খরচের জটিল সব সমীকরণ।
মূল সমস্যা কোথায়? CATMi-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটিএমগুলিতে টাকা ভরার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-কে জানানো চিঠিতে বলেছে:
চাহিদা বনাম সরবরাহ: মার্চ মাসে চাহিদা ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা, পাওয়া গেছে মাত্র ৬১ হাজার কোটি (৬৪%)। এপ্রিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে—চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫৭ শতাংশ টাকা পাওয়া গেছে।
সাপ্লাই চেইন সংকট: বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখা এবং কারেন্সি চেস্ট থেকে টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম সমস্যার মুখে পড়ছে এটিএম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলি।
কেন এই পরিস্থিতি? শিল্পমহলের দাবি, এটিএম পরিষেবা এখন আর খুব একটা লাভজনক নয়। এর পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে: ১. ব্যবসায়িক চাপ: ইন্টারচেঞ্জ ফি হিসেবে ১৯ টাকা পাওয়া যায়, যা বর্তমান খরচের তুলনায় যথেষ্ট নয়। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ায় নগদ পরিবহণের ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ২. ডিজিটাল পেমেন্টের প্রভাব: মানুষ এখন ইউপিআই (UPI) বা ডিজিটাল পেমেন্টের দিকে বেশি ঝুঁকছে। ফলে এটিএমে লেনদেনের সংখ্যা বছরে ১০.৪ শতাংশ কমে ৪৪.৬৫ কোটিতে নেমে এসেছে। ৩. দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মারপ্যাঁচ: যে সময় চুক্তি হয়েছিল, তখন এত দ্রুত লেনদেন কমবে তা আন্দাজ করা যায়নি। এখন লেনদেনের পরিমাণ কমায় ব্যবসায়িক লোকসান বাড়ছে।
বাজারে কি আসলেই টাকা নেই? না, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে ২২ মে পর্যন্ত দেশে নগদের পরিমাণ (Currency in Circulation) ৪২.৫৪ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, বাজারে টাকা আছে, কিন্তু সেই টাকা এটিএম অবধি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থায় বড়সড় গলদ রয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হবেন, কারণ তারা এখনও মূলত নগদ লেনদেনের ওপরই নির্ভরশীল। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী ও পেনশনভোগীদের জন্য এটিএম এখনও লাইফলাইন। এখন দেখার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও ব্যাঙ্কগুলি এই সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।





