রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইয়ে উন্নয়নের কাজ যেন থমকে না যায়—নবান্নের এক বিশেষ বৈঠকে যোগ দিয়ে ঠিক এই বার্তাই দিলেন তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ। রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতরে আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, বৃহত্তর স্বার্থে উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকা উচিত নয়।
কী বললেন রথীন ঘোষ? বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক বলেন, “উন্নয়ন কোনো দলের সম্পত্তি নয়। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার সময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।” তাঁর এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রথীন ঘোষ আরও জানান, নবান্নের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের পথে নিয়ে যাওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য।
কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ? সম্প্রতি রাজ্যের নানা প্রান্তে উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে টানাপোড়েন লেগেই থাকে। এমতাবস্থায় একজন বিধায়কের এই ধরণের মন্তব্য কি নতুন কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত? প্রশাসনিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন হোক কিংবা রাজ্যের নিজস্ব পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে এই ধরণের মানসিকতা খুবই জরুরি।
প্রশাসনিক স্তরে স্বস্তি: বিধায়কের এই অবস্থানে খুশি প্রশাসনিক কর্তারা। মনে করা হচ্ছে, জনপ্রতিনিধিরা যদি রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে সরাসরি প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ান, তবেই প্রকল্পের সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে।
রথীন ঘোষের এই ‘উন্নয়নমনস্ক’ মন্তব্যের পর বিরোধী শিবির একে কীভাবে গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





